নিজস্ব প্রতিবেদক, কৃষ্ণনগর:
রাতের অন্ধকারে দোকানের পিছনের দেওয়াল ভেঙে একাধিক দোকানে ঢুকে দুঃসাহসিক চুরির অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শুধু চুরি করেই থেমে থাকেনি তারা, একটি মোবাইলের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী লুটের পর দোকানের ভিতরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৃষ্ণনগর সংলগ্ন জালালখালি বাজার এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। আগুন নেভাতে ডাকা হয় দমকল বাহিনীকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বাজারের একাধিক দোকানকে নিশানা করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, দোকানের পিছনে মই লাগিয়ে লোহার রডের সাহায্যে দেওয়াল ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে তারা। এরপর একটি মোবাইলের দোকান এবং সংলগ্ন একটি স্টুডিওতে ঢুকে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা-সহ বিভিন্ন দামি সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরির পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই মোবাইলের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার সকালে বাজারে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখতে পান। প্রথমে আগুন লাগার ঘটনা বলেই মনে করেছিলেন তাঁরা। পরে দোকানের পিছনের দেওয়াল ভাঙা এবং ভিতরের জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। তখনই চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে।
মোবাইলের দোকানের মালিক স্বরূপ রায় জানান, তাঁর দোকান থেকে প্রায় ৬০টি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। মোবাইল ও অন্যান্য সামগ্রী মিলিয়ে তাঁর আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শুধু সামগ্রীই নয়, দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা এবং হার্ড ডিস্কও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ফলে গোটা ঘটনার কোনও দৃশ্যমান প্রমাণও হাতছাড়া হয়েছে বলে দাবি দোকান মালিকের।
অন্যদিকে, পাশের স্টুডিওর মালিক বিনয় বিশ্বাস জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিল। অভিযোগ, দুটি ক্যামেরা ভেঙে রেখে বাকি ক্যামেরাগুলি নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর কথায়, দোকানের উপরের অংশ ভেঙে ভিতরে ঢোকা হয়েছিল। মোবাইলের দোকানেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। চুরির পর সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তের উপরই এখন ভরসা করছেন তাঁরা।
পাশের ‘খেলাঘর’ দোকানের মালিক শ্যামল বালাও জানান, তাঁর দোকানের উপরের ঘর খোলা হয়েছিল এবং ভিতরের জিনিসপত্র তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও তাঁর দোকান থেকে ঠিক কী কী সামগ্রী খোয়া গিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর থেকেই বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, জালালখালি বাজার অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা। এমন একটি জায়গায় দোকানের পিছনের দেওয়াল ভেঙে দুষ্কৃতীদের প্রবেশ, দীর্ঘ সময় ধরে চুরি এবং পরে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাজারে রাতের নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে দুষ্কৃতীরা বাজারে ঢুকল, কতজন ছিল, চুরি হওয়া সামগ্রী কোথায় সরানো হয়েছে এবং আগুন লাগানোর উদ্দেশ্য কী ছিল—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুরি যাওয়া সিসিটিভির হার্ড ডিস্ক উদ্ধার এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

Be the first to comment