রোজদিন ডেস্ক : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমনে কার্যত জনসুমদ্রে পরিনত হল বনগাঁ থেকে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন এলাকা। তাহেরপুরের সভা শেষ করে তিনি এলেন মতুয়া গড় ঠাকুরনগরে। আসলেন, ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিলেন। কথা বললেন। আর জয় করলেন মতুয়া-মন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিভূত মতুয়া সমাজ তাঁর হাতে তুলে দিল উপহারস্বরূপ মিষ্টি, ফল প্রসাদ ও হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুরের পুস্তিকা ও সংবর্ধনা মতুয়াদের চাপে কার্যত পিছু হটলেন শান্তনু ঠাকুর। এদিন বনগাঁর কৃষিমান্ডির স্থায়ী হেলিপ্যাডে নেমে ঠাকুরবাড়ির উদ্দেশ্য সড়ক পথে রওনা দেন অভিষেক। চলার পথে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অগণিত মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ সারলেন। সাড়ে চারটে নাগাদ ঠাকুরবাড়ি এসে পৌঁছল তাঁর কনভয়। মতুয়াদের সংঘাধিপতি তথা তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর ও সহ-সাংঘাধিপতি তথা বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে পুজো দিতে নিয়ে যান। প্রথমে হরিচাঁদ তারপর গুরুচাঁদ ঠাকুর এবং শেষে বড়মার মন্দিরে শ্রদ্ধা ভরে পুজো দেন অভিষেক। তিনি পুজো শুরু করতেই বেজে উঠে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ডঙ্কা। এদিন মতুয়াদের মধ্যে দেখা যায় অলোড়ন।

অভিষেক আসার অনেক আগে থেকেই লাল নিশানে সেজে উঠেছিল গোটা ঠাকুরবাড়ি। তিনি ঢোকা মাত্রই জয়ধ্বনিতে গর্জে ওঠে গোটা ঠাকুরবাড়ি। পুজো দিয়ে প্রায় পাঁচটা নাগাদ তিনি ঠাকুরবাড়ি থেকে চলে যান। তাঁকে ডঙ্কা বাজিয়ে বিদায় দেন মতুয়ারা। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঠাকুরবাড়িতে ছিলেন পার্থ ভৌমিক, বিশ্বজিৎ দাস, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ব্রাত্য বসু, নির্মল ঘোষ-সহ দলীয় নেতৃত্ব। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখানে কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য রাখবো না। নিঃশর্ত নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে যাঁরা সব সুবিধা নিচ্ছে, মতুয়ারা যদি বেনাগরিক হয় তবে আপনারও গদি কিন্তু গদি ছাড়তে হবে। মানুষের ভালোবাসা আটকে রাখা যায় না। যত আটকে রাখবেন ততই মানুষের আস্থা, ভরসা বাড়বে তৃণমূলের প্রতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়াদের জন্য যা, যা করেছেন তার রিপোর্ট কার্ড আমরা দিয়েছি। শান্তনু ঠাকুর ও বিজেপি কী কী করেছে তার রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুন। বাকিটা রাজনৈতিক ময়দানে দেখা হবে। আমরা আছি, আপনারাও আসুন। যারা এখানে বিরোধিতা করবেন তাদের জবাব মানুষ দেবে। প্রধানমন্ত্রী এসে যা বলে গেছেন তার একটাও করেননি। ঠাকুরবাড়ির উন্নয়ন আমাদের সরকার করেছে। আগামী দিনে আরও উন্নয়ন করা হবে বলেও তিনি মতুয়া সমাজকে আশ্বস্ত করেন।

Be the first to comment