বৈধ ভোটারদের নাম অন্যায় ভাবে কেটে দিলে রুখে দাঁড়াতে হবে, নবান্ন থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, বাংলায় পরিকল্পনা করে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এসআইআরের ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কমিশন এআই ব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ মমতার। মুখ্যমন্ত্রীর মারাত্মক অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বেছে বেছে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিবাহিত মহিলাদের পদবী পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন হওয়ায় তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ৫৮ লক্ষ নাম একতরফা নাম বাদ দেওয়া হল। বেছে বেছে মহিলাদের টার্গেট করা হয়েছে। বিজেপির স্বার্থে মানুষকে নিয়ে খেলা করছে এরা। তাঁর পরামর্শ, অন্যায় ভাবে বৈধ ভোটারের নাম কাটলে রুখে দাঁড়ান।অধিকার ছিনিয়ে নিন।
মতুয়া সমাজ, পরিযায়ী শ্রমিক, নতুন ভোটার এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, আপনাদের নাম কেন বাদ গেল, জানতে চাইবেন না? বিএলও, ইআরও, জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানান। নথি জমা দিলে অবশ্যই রশিদ নেবেন। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ নাম কোনও কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। টার্গেট করা হচ্ছে মহিলাদের। বাড়ি বদল করেছেন এমন বহু মানুষেরও নাম কাটা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই জেনুইন ভোটার। কিন্তু কাউকে আগাম জানানো হয়নি। তিনি বলেন, বলা হচ্ছে ইআরও-রা করেছে। কিন্তু ইআরও-রাও জানত না। মাইক্রো অবজার্ভাররা সব ক্রস করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাতিল নামের তালিকা কোনও রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হয়নি, শুধু বিজেপির হাতে রয়েছে। কারণ ওদের নির্দেশেই সব হচ্ছে। যাঁদের নাম কাটা হয়েছে, তাঁরা ৭ ও ৮ নং ফর্ম পূরণ করে পুনরায় নাম তোলার আবেদন করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিহার, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় একই ছকেই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কেউ জানতে পারেনি। ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনেই ভোট ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ আদালতে না যেতে পারে।
এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর প্রসঙ্গ বলেন, এসআইআরের চাপ ও হয়রানিতে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর দায় নির্বাচন কমিশন- বিজেপিকে নিতে হবে। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লার নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিষয়টি নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিএলএ-২ প্রতিনিধিদের শুনানিতে ঢোকার কথা থাকলেও বিজেপির এজেন্ট না থাকায় তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ নিয়ম অনুযায়ী মাইক্রো অবজারভারদের সেখানে থাকার কথাই নয়। সিএএ প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আড়ালে সিএএ কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। বাইরে থেকে লোক এনে ভোটার বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। পদ্ধতি মানা হচ্ছে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*