রোজদিন ডেস্ক : মায়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চি কি বেঁচে আছেন?? দীর্ঘদিন ধরে মা-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারা পুত্র কিম অ্যারিসের সন্দেহ, তাঁর মা হয়ত বেঁচে নেই। দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন সু চি।অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মায়ানমারের ক্ষমতায়ও এসেছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান ফের সব ওলট-পালট করে দিয়েছে। দীর্ঘ দু-বছর তাঁকে কেউ দেখে নি, তাঁর হৃদযন্ত্র, হাড়, মাড়ি ইত্যাদি সমস্যা নিয়ে পরোক্ষভাবে কিছু খবর পেয়েছেন পুত্র অ্যারিস। উদ্বিগ্ন পুত্র জানান, পরিবার, আইনজীবি, কারও সঙ্গেই মা সু চি কে দেখা করতে দেওয়া হয় না। নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় জর্জরিত অশীতিপর মা কেমন আছেন প্রবাসে থাকা পুত্রের জানার ও কোন উপায় নেই। ২০১৫ সালে মায়ানমারের ক্ষমতায় আসেন সু চি। কিন্তু ২০২১ সালের পর থেকে তিনি বন্দি জীবনযাপন করছেন। মায়ানমারের জুন্তা সরকার এই বিষয়ে কিছুই জানায় না বলে আক্ষেপ করেন পুত্র অ্যারিস। দু-বছর আগে মা এর শেষ চিঠি পেয়েছেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, বিশ্বব্যাপী নানা সংঘাতের আবহে তাঁদের দেশ মায়ানমারের কথা হয়ত মানুষ ভুলে গেছেন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে ওই দেশে ধাপে ধাপে নির্বাচন হবে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন, নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী সু চি-র বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি ইত্যাদি নানা অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। প্রবাসী পুত্র অ্যারিস চান, নির্বাচনের সময় আন্তর্জাতিক মহল তাঁর মা এর খোঁজ নিক, তাঁর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হোক।মায়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গণহত্যায় নাম জড়িয়েছিল সু চি-র। অ্যারিস জানান, এর জন্য দায়ী সামরিক বাহিনী। তাঁর মা কোনভাবেই এর সঙ্গে জড়িত না।
মা-এর মুক্তি নিয়ে জাপান সহ বিভিন্ন দেশে সফর করছেন তিনি। দাবি, মায়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক আন্তর্জাতিক মহল। শান্তি, গণতন্ত্র, সুস্থিতি ফিরুক তাঁর দেশে। মুক্তি পান সু চি। এই আশা নিয়েই দেশ বিদেশ সফর করছেন অ্যারিস।

Be the first to comment