মঞ্চ খোলার প্রতিবাদে : মুখ্যমন্ত্রী-বিজেপি সংঘাত

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : বাংলা ভাষা  আন্দোলন নিয়ে এবার কেন্দ্রের শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে আরও সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এইদিন গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের মঞ্চ খুলে দেয় সেনা বাহিনী। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন শাসক দলের নেতারা। খবর পেয়েই ঘটনা স্থলে চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁকে দেখেই উপস্থিত সেনাদের অনেকে পালাতে যান বলে জানান তিনি। সেনাবাহিনী বাংলা ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ খোলা নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও ঝানু রাজনীতিবিদ মমতা মুহূর্তের মধ্যে নিশানা করেন কেন্দ্রের শাসক বিজেপি কেই। বলেন, এর নেপথ্যে  কারা আছেন, তারা বুঝতে পারছেন। সেনা বাহিনীর সঙ্গে তাদের কোন সংঘাত নেই। ওরা কেন্দ্রের নির্দেশ পালন করছেন মাত্র। যদিও তাকে দেখে পলায়মান সেনাদের কটাক্ষে বিধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যখন বিজেপি থাকবে না, তখন ওরা পালাবে কোথায়!

এইদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, মোদিজি যে এখানে আসেন, উনি কি রাজ্যের অনুমতি নেন? এই নিয়ে তারা কিছু বলেন না, কারণ এটিই হোল সৌজন্য।

মেয়ো রোডের মঞ্চ খোলার প্রেক্ষিতে তাদের এই ভাষা আন্দোলন মঞ্চ মঙ্গলবার থেকে রানি রাসমণি রোডে রাজ্যের নিজস্ব জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিদিন ওখানে বাংলা ভাষাকে আক্রমণ-এর প্রতিবাদে আন্দোলন চলবে। এই ছাড়া ওইদিন দুপুর থেকে বিজেপির এই ভূমিকার বিরুদ্ধে রাজ্যের সব জেলা,  ব্লক, ওয়ার্ডেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে বলে তিনি জানিয়ে দেন।

বস্তুত, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই সুর চড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল। পালটা সুর চড়ছে গেরুয়া শিবিরেরও। যা নিয়ে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।

মেয়ো রোডে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই মঞ্চ খোলা নিয়ে সেনা তাঁকে, পুলিশকে জানাতে পারত। পুলিশ তাদের দলের সঙ্গে কথা বলত। অসুবিধা হলে মিনিটের মধ্যেই মঞ্চ খুলে দিতেন তারা। কিন্ত তা না করে সেনা বাহিনীর মত সংস্থাকে বিজেপি নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক কাজে অপব্যবহার করছে বলে তিনি তোপ দাগেন।

সম্প্রতি রাজ্যে ফের কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি, সিবিআই এর সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন,  ভোট এলেই এই সব সংস্থা তাদের বদনাম করতে সক্রিয় হয়। মানুষই এর উত্তর দেবে। বিজেপি যত এই সব করবে, ততই তাদের পতন হবে বলে মন্তব্য করেন।

স্বাধীনতা দিবসে বিজেপি জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর অবমাননা করেছে বলেও এইদিন গুরুতর অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ওরা (বিজেপি)  গান্ধীজির ছবিকেও অবমাননা করেছে। কিন্তু তারা এই সব করেন না, গান্ধীজি তাদের হৃদয়ে আছেন।

এইদিনের ঘটনা নিয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গেও কথা বলেছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের বিক্ষোভ আন্দোলন লাগাতার চলবে বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। এইদিন তাকে ঘিরে দলের বিশিষ্ট বহু নেতার উপস্থিতিতে বিজেপি বিরোধী সুর তুঙ্গে তুলে মমতা আরও বলেন, তবে কি ব্রিগেডে, মেয়ো রোডে (যা সেনার অধীন)  তারা কোন কর্মসূচি করতে পারবেন না? বিজেপি তো কোন অনুমতি ছাড়াই এখানে কর্মসূচি নেয়। তাদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে তো?

সেনাবাহিনী দেশের সম্মান, সম্পদ, তাদের নিরপেক্ষ হতে আহবান জানান মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ করেন, এইদিন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশেই তারা এই ভাষা আন্দোলন এর মঞ্চ খুলেছেন। ডুরান্ড কাপ নিয়ে সেনা যেমন রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এর সঙ্গে আলোচনা করেছিল, এবার কেন তা করল না বলেও প্রশ্ন তোলেন মমতা।

আরও বলেন, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করে কে?  রাজ্য সরকার। মেয়ো রোড-সহ রাজ্যের সব রাস্তাঘাটের  দেখভালও করে রাজ্যই। এরপর কি রেড রোডেও তারা কোন কর্মসূচি করতে পারবেন না বলে জানতে চান।

বস্তুত এইদিন ভাষা আন্দোলন এর মঞ্চ খোলা নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় বিজেপি বিরোধী আন্দোলন আরও তুঙ্গে নেওয়ার সুরও বেধে দেন তিনি।

ওড়িশায় তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের আক্রান্ত হওয়া,  অসমে বাংলা, বাঙালি বিদ্বেষের উল্লেখও করে আরও বেশি করে সবাইকে বাংলায় কথা বলার আহবান জানান।

এইদিন পুলিশ দিবসে বিজেপি পুলিশকে অপমান করেছে বলে অভিযোগ করেন।

দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী এইদিন বাংলার পাশে ইংরেজি,  হিন্দিতেও বেশ কিছু বক্তব্য রাখেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের আক্রমণ হলেও তারা এখানে অবাঙালিদের ভালবাসেন। কারণ এটাই রাজ্যের সংস্কৃতি। এখানে সব মানুষ একসঙ্গে শান্তিতে থাকেন বলে বার্তা দেন।

অন্যদিকে সেনার পক্ষে দাবি জানানো হয়, মেয়ো রোডে দুদিনের জন্য মঞ্চ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী এই মঞ্চ রানি রাসমণি রোডে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করায় তারাও স্বস্তিতে বলে ইঙ্গিত মেলে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*