রোজদিন ডেস্ক : হেমন্তের নরম রোদে আজ অযোধ্যায় রামমন্দিরের ধ্বজ উদ্বোধন করে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানালেন, এটি শুধু পতাকা নয়, ভারতীয় সভ্যতার পুনর্জাগরণ!! এর গেরুয়া রঙ, সূর্যবংশের গরিমা বহন করছে, যেখানে আঁকা আছে ওম! এতে অঙ্কিত রক্ত কাঞ্চন গাছ রাম রাজ্যর মহিমার প্রতীক।
এই ধর্মধ্বজা জীবনকে উৎসাহিত করে জানায় যে জীবন যাবে, তাও কথা দিলে সেই কথা রাখতে হয়।
আজ রামমন্দিরের পবিত্র পতাকা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়ে ওখানকার সপ্তমন্ডপে ও ভক্তিভরে পূজা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাম মন্দিরে এলে এই সপ্তমন্ডপ অবশ্যই দর্শনের জন্য তিনি দেশের সব মানুষকে আহবান জানান।

ঝানু রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানকে হাতিয়ার করে নাম না করে কংগ্রেস কে এক হাত নেন৷ বলেন, “আমি কয়েকদিন আগে বলেছিলাম, আগামী ১০ বছর ভারতকে ক্রীতদাস সুলভ মনোভাব থেকে মুক্ত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দুর্ভাগ্যবশত আমরা স্বাধীন হয়েছি, কিন্ত নিজেদের হীনমন্যতা থেকে মুক্ত হতে পারিনি। আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে বিদেশের সব কিছুই ভাল, আর আমাদের সব কিছুই খারাপ।
বলা হয় যে আমাদের সংবিধান ও বিদেশের সংবিধানের ধাঁচে তৈরি, আসল সত্যি হল, ভারতই গণতন্ত্রের মা, আমাদের ডিএনএ-তেই গণতন্ত্র আছে। ”
অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তাঁরা পালন করেছেন বলে গর্বিত প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল প্রায়শই এর উদাহরণ দেন। তাঁর এই স্বপ্নের মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন থেকে শুরু করে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা, সবেতেই তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি সারা দেশের নজর কেড়েছে। আজ বিশাল দৃষ্টিনন্দন এই রামমন্দিরের সুউচ্চ মিনারে গৈরিক পতাকা উদ্বোধন করে
রীতিমত উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নে রামের অনুসরণ করার আহবান জানান। এই উপলক্ষে এখানে আসা সব অতিথিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভগবান রামের থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। রামের ব্যক্তিত্ব, তাঁর ব্যবহার সবাই অনুসরণ করা জরুরি। ২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ পূরণে তাঁরা অতি অবশ্যই বিকশিত ভারত নির্মাণ করবেন বলে দৃঢ় ভাবে জানান তিনি। স্বল্পমেয়াদি চিন্তা নয়, সব সময় দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা, স্বপ্নের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, যাঁরা শুধু বর্তমানের কথা ভাবেন, তাঁরা ভবিষ্যত প্রজন্মর প্রতি অবিচার করেন। তাঁরা না থাকলেও দেশ থাকবে, ভারতকে প্রাণবন্ত সমাজ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আজ রামমন্দিরের এই পতাকা উদ্বোধন-এর মধ্য দিয়ে শতবর্ষের ব্যথার উপশম হল বলে মন্তব্য করেন।
আজ এই ধ্বজা উদ্বোধন উপলক্ষে অযোধ্যায় ভিড় উপছে পড়ে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ, রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘন ঘন হর্ষধ্বনিতে স্বাগত জানান উপস্থিত জনতা।
এই উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয় গোটা এলাকা।
তৃপ্ত, দৃপ্ত , আত্মশক্তিতে ভরপুর মেজাজে আজ এই বিশাল ধ্বজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। জানান দেন এক নয়া ভারতের সূচনা হতে চলেছে।
যে ভারত হবে কিংবদন্তি কথিত রামের অনুসারি। আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস, আত্মশক্তিতে ভরপুর এক নতুন ভারত।

Be the first to comment