চলতি বছরের ২৬ জুন ইতিহাস তৈরি করেছিলেন ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা। অ্যা ক্সিয়ম-৪ অভিযানের অংশ হিসাবে অন্য তিন মহাকাশচারীর সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৌঁছেছিলেন। তারপর বেশ কয়েকদিন ধরে মহাকাশে থেকে তিনি একাধিক বিষয়ে গবেষণা করেন। তারপর মিশন শেষ করে প্রায় ২২ ঘণ্টার দীর্ঘ সফর শেষে ঘরে ফেরেন ১৪ জুলাই ভারতীয় সময় ৪টে ৩৫ মিনিটে, যেটি আমেরিকার সময় ভোর ৭টা বেজে ৫ মিনিটে। ১৮ দিন মহাকাশে শুভাংশুর এই অভিযান যে ঐতিহাসিক সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশ গিয়েছিলেন। তাঁর কীর্তিকেই শুভাংশু সেদিন স্পর্শ করেন। সময়ের হিসেবে শুভাংশু রাকেশের থেকে অনেকটা বেশি সময় অন্তরীক্ষে ছিলেন। কেবল তাই নয়, তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গেলেন।
মহাকাশে পৌঁছনোর পরে শুভাংশুকে জিঙ্গাসা করা হয়েছিল পৃথিবীকে দেখতে কেমন লাগছে তাঁর? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সোজা সাপটা উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “পৃথিবীকে এমন জায়গা থেকে দেখার সুযোগ পাওয়াটা একটা সৌভাগ্যের বিষয়। যাত্রাটাও ছিল অসাধারণ, তার থেকেও অসাধারণ অভিঙ্গতা। মহাকাশে আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু যে মুহূর্তে আমি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করলাম, এই ক্রু সদস্যরা আমাকে এমন স্বাগত জানাল! তোমরা আক্ষরিক অর্থেই আমাদের জন্য তোমাদের ঘরের দরজা খুলে দিলে।” মহাকাশ জয়ের গৌরব নিয়ে বুধবার কলকাতায় আসেন ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভ্রাংশু শুক্লা। কলকাতা বিমানবন্দরের বাইরেই তার ছবি ধরা পড়ে। AXIOM-4 মিশন সফলভাবে শেষ করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে পৃথিবীতে ফেরার পর এটি তাঁর প্রথম কলকাতা সফর। আর কলকাতায় এসেই ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ-পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করে দিলেন নভশ্চর গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। বুধবার মিউজিয়াম অফ অ্যাস্ট্রনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সে অনুষ্ঠানে জানান, দেশের নিজস্ব মহাকাশকেন্দ্র স্থাপন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তাঁর কথায়, ‘আগামী ১০–১৫ বছরের মধ্যে এটা হবেই। ২০৩০ বা ২০৪০ সালটা বড় কথা নয়, মহাকাশ জয় ২০৪৭-এর বিকশিত ভারতের অঙ্গ।’
প্রশ্ন, সেই সম্ভবনা কতখানি? হ্যাঁ, নিজস্ব মহাকাশ কেন্দ্র হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা আছে, বিশেষত ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনার কারণে, যা আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হতে পারে বলে নভোচারী ও ISRO চেয়ারম্যান ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও এটি নির্ভর করবে ভারতের সামগ্রিক মহাকাশ নীতির ওপর, তাছাড়া কলকাতায় মিউজিয়াম অফ অ্যাস্ট্রনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সের মতো উদ্যোগ মহাকাশ গবেষণাকে জনপ্রিয় করতে সাহায্য করছে। প্রথমত, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন (ISS-এর মতো) স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে, যা ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারতের’ একটি অংশ। ভারতীয় নভোচারী শুভাশু শুক্লার মতো ব্যক্তিত্ব কলকাতায় এসে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যা কলকাতাকে কেন্দ্র করে মহাকাশচর্চার সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। কলকাতায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মডেল প্রদর্শনীর মতো উদ্যোগ মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ কেন্দ্র স্থাপনে সহায়ক হতে পারে।
এই সময়ে কলকাতার মিউজিয়াম অফ অ্যাস্ট্রনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সে মহাকাশ সম্পর্কিত আলোচনা ও প্রদর্শনী চলছে, যা গবেষণার পরিবেশ তৈরি করছে। ISRO-এর মতো সংস্থাগুলি মহাকাশ জয়কে একটি জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে দেখছে, যেখানে ভারতের মহাকাশ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের মতো উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এখন শ্রীহরিকোটার মতো জায়গায় রয়েছে, তবে কলকাতায় একটি মহাকাশ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতের মহাকাশ অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

Be the first to comment