বাদ পড়া নাম ফের তুলতে জেলাশাসকের দপ্তরে ভিড়, হয়রানিতে প্রবীণ ভোটাররা

Spread the love

রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর : ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম ফের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে কৃষ্ণনগরের জেলাশাসকের দপ্তরে প্রতিদিনই বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভিড়। সকাল হতেই অফিস চত্বরে লম্বা লাইন চোখে পড়ছে। সেই লাইনে শামিল হচ্ছেন প্রবীণ নারী-পুরুষরাও। নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের নাম ফের ভোটার তালিকায় তোলার আশায় বহু মানুষ ভোরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে জেলাশাসকের দপ্তরে হাজির হচ্ছেন। কিন্তু কাজ শেষ হতে লাগছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, ভিড় ও গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে দেখা গেল বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কাগজপত্র হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন লাইনে। তাঁদের অনেকেই জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই দেশে বসবাস করছেন এবং বহু বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে পরিবারের তরুণ সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন অনেকেই।

এদিন দক্ষিণ হাতিশালা থেকে আসা ৭৫ বছর বয়সী সুদর্শন দেবনাথ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি জানান, প্রায় ১৯৯৫ সালের দিকে তাঁর পরিবার বাংলাদেশের নোয়াখালি থেকে ভারতে চলে আসে। প্রথমে সুবর্ণবিহার এলাকায় বসবাস শুরু করেন, পরে দক্ষিণ হাতিশালায় স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন। তাঁর তিন ছেলে রয়েছে। কিন্তু ছোট ছেলে রাজীব দেবনাথের নাম সম্প্রতি ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে, আর বাকি সদস্যদের নাম রয়েছে বিবেচনাধীন অবস্থায়। ছোট ছেলে বর্তমানে বিদেশে থাকেন, তাই তাঁর হয়ে বাবাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে এসেছেন। পাসপোর্ট ও আধার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরও ছেলের নাম বাতিল হওয়ায় গভীর উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। কথা বলতে বলতেই আবেগে ভেঙে পড়েন ওই বৃদ্ধ।

অন্যদিকে ধর্মদা এলাকা থেকে এসেছেন বিমল বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, মেয়ে বুলবুলি বিশ্বাসের ভোটার কার্ডে পিতার নামের জায়গায় স্বামীর নাম উঠে এসেছে। সেই ভুল সংশোধনের জন্য একাধিকবার অনলাইনে আবেদন করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। শুনানিতে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও চূড়ান্ত তালিকায় মেয়ের নাম বাদ পড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণদের জন্য তা আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও সহায়ক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*