রোজদিন ডেস্ক : না ফেরার দেশে চলে গেলেন নাজিবার রহমান। আজ শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাওড়া জেলার ফুলেশ্বরে একদা তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল, ‘কানেরিয়া জুট সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়ন’। ইউনিয়ন গড়ার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে। এক বছরের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিকের মতামতের ভিত্তিতে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের সঙ্গে যাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনি হলেন প্রফুল্ল চক্রবর্তী।
কানেরিয়া জুট মিলের আন্দোলন এক ঐতিহাসিক আন্দোলন। সেই সময়টায় শ্রমিক আন্দোলনে একটা ভাঁটার টান চলছিল। কানোরিয়া আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলনে একটা জোয়ার এনেছিল। মিল সংলগ্ন ৮৭টি গ্রামে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের প্রথম শ্লোগান ছিল, অনাহারে এবং বিনা চিকিৎসায় একজন শ্রমিককে এবং শ্রমিক পরিবারের কাউকে আমরা মরতে দেব না। এ জন্য গ্রামে গ্রামে রান্নাঘর (কমিউনিটি কিচেন) এবং আন্দোলনের কেন্দ্র কালসাপায় চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। এই আন্দোলনে যুক্ত হয় ছাত্র-যুব এবং স্থানীয় মানুষের একাংশ। যাঁদের সহযোগী বন্ধু না দেওয়া হয়। তাঁরা শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। রান্নাঘরগুলি চালাবার জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল। সেই অর্থ জুগিয়েছেন পশ্চিমবাংলার মানুষ। অর্থ জুগিয়েছেন খ্যাতনামা লেখক, শিল্পী, অভিনেতা, গায়ক, খেলোয়াড়-সহ বহু মানুষ। শ্রমিক ও সহযোগীরা দলবেঁধে ট্রেনে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন।
কলকাতায় কবি সমীর রায় এবং সুখেন্দু ভট্টাচার্য-সহ বহু সংগ্রামী মানুষ ‘কানেরিয়া জুট সংহতি কমিটি’ গড়ে তুলে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। কবীর সুমন তখন সুমন চট্টোপাধ্যায়। কানোরিয়ার গেটে দৃপ্ত কন্ঠে গান গেয়ে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেন। একটা কারখানার আন্দোলন এভাবেই একটা সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। নাজিবার রহমান এবং তাঁর সঙ্গী কয়েক হাজার শ্রমিক অসাধ্য সাধন করেচিলেন। নাজিবার রহমানের মৃত্যু একটা ইতিহাসের সমাপ্তি। তাঁকে মনে রাখবে আগামী প্রজন্ম।
তাঁর মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে সাংসদ দোলা সেন লেখেন, “নাজিবারদা। নাজিবার রহমান। চলে গেলেন আজ সকাল ১০ টা ৫০ মিনিটে। ২ রা জানুয়ারি, ২০২৬। জুম্মাবারে। কানোরিয়া জুট মিলের শ্রমিক আন্দোলনের নেতা। ছোট্ট চেহারায় অসীম তেজস্বী, অপরিসীম জেদ, অকুতোভয়, হার না মানা মনের জোর এর প্রকৃত শ্রমিক নেতৃত্ব। নাজিবারদাকে প্রণাম, কুর্নিশ, সালাম জানাই। কানোরিয়া আন্দোলনের সাথে সাথে তোমাকেও আমরা মনে রাখব। সবসময়ে।”
শ্রমিক নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, “কানোরিয়ার লড়াকু শ্রমিক নেতা নাজিবার রহমান আজ প্রয়াত হলেন। বিরল নেতৃত্বগুণসম্পন্ন এই মহান মানুষটিকে আমার অশেষ শ্রদ্ধা জানাই। পরিবার পরিজনকে জানাই সমবেদনা। ইতিহাসে তাঁর নাম লেখা থাকবে।

Be the first to comment