ভোটাধিকারের লড়াইয়ে গণমঞ্চের পাশে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা

Spread the love

‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এবং ‘বাংলা একতা মঞ্চে’র যৌথ উদ্যোগে বাংলায় সমস্ত বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাসবিহারী মোড়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আজ এক পথসভার আয়োজন করা হয়। ইতিমধ্যে বাংলায় ৬৩ লক্ষ্ ভোটারের নাম বাদ গেছে। ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষের বেশি বৈধ ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে। অধ্যাপিকা তানভীর নাসরিনের কথায়, এসআইএর নামে বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীর কথায়, “নির্বাচন কমিশন রেফারি হয়ে এসেছিলো কিন্তু মাঠে হঠাৎ রেফারি থেকে খেলোয়াড়ে পরিণত হয়। কিন্তু এই খেলা কমিশন খেলতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নরেন্দ্র মোদী খুব ভয় পায়।” তিনি আরো বলেন, বিজেপি সরকার জানে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও সারা ভারতবর্ষ তোলপাড় করে দিতে পারেন মমতা একাই। কাজেই বাংলার মানুষকে ভয় পেলে চলবে না। নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করে নিতে হবে। অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন সারা ভারতবর্ষ জুড়ে অস্থির পরিস্থিতি তো আছেই, কিন্তু আমাদের রাজ্যে আজ অসাংবিধানিক বাতাবরণ তৈরী হয়েছে। কয়েক লক্ষ মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকারের যে মূল স্তম্ভ, ভোটাধিকার, তার থেকে বঞ্চিত। আজ সকল শিক্ষিত, সংস্কৃতিমনস্ক, অভিজ্ঞ মানুষজনেরা একত্রিত হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। ভারতবর্ষ স্বাধীনতার পর থেকে তার গণতান্ত্রিক অধিকার গণতান্ত্রিক ভিত্তি অক্ষুন্ন রেখে চলেছে। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনও ভেঙে যায়নি। তাই অভিনেতার কথায়, আমাদের অধিকার না দিলে আমরা তা আদায় করে নেবো।

এরপর জনগণকে অনুপ্রাণিত করতে নিজের লেখা একটি গান পরিবেশন করেন গায়ক সৈকত মিত্র। তিনি সকলকে অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শোভনসুন্দর বসু। নাট্য ব্যক্তিত্ব শুদ্ধসত্ব ঘোষ এবং সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্তর কথাতেও উঠে আসে “বাংলা বাঁচাও, বাঙালি বাঁচাও” এর দাবি।

সংগঠকরা বলেন যে বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্বের যে সংকট আজ তৈরী হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই মঞ্চের মুল উদ্দেশ্য। বাংলা নিজেদের জায়গা বহিরাগতদের হাতে তুলে দেবে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*