ফুড ডেলিভারি অ্যাপের আদলে ‘বুক আ মিল’, শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে নতুন উদ্যোগ

Spread the love

ডিজিটাল যুগে যখন খাবার ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, তখন সেই একই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সমাজের এক বড় সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে একটি নতুন উদ্যোগ ‘বুক আ মিল’। এই নন-প্রফিট প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য, দেশের দরিদ্র ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া।


সুইগি, জোম্যাটোর মতো জনপ্রিয় অ্যাপের আদলে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা খাবার অর্ডার করার মতোই বিভিন্ন মেনু থেকে খাবার নির্বাচন করতে পারেন। তবে এই খাবার তাদের বাড়িতে পৌঁছায় না; বরং পৌঁছে যায় বস্তি, আশ্রয়কেন্দ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের কাছে।
ওয়েবসাইটটি দেখতে ঠিক একটি সাধারণ ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের মতো। এখানে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় খাবারের তালিকা রয়েছে উত্তর ভারতীয় থালি, দক্ষিণ ভারতীয় খাবার, নিরামিষ ও আমিষ পদ, ফলসহ নানা পুষ্টিকর খাবার। ব্যবহারকারীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী খাবার বেছে নিয়ে অনুদান হিসেবে অর্ডার করতে পারেন।

অর্ডার দেওয়ার পর সেই অনুদান একটি ব্যাকএন্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক ও পার্টনার কিচেনগুলির কাছে পৌঁছায়। সেখানেই প্রস্তুত হয় খাবার, যা পরে বিতরণ করা হয় প্রয়োজনীয় শিশু ও অসহায় মানুষদের মধ্যে। ফলে ডিজিটাল সুবিধা বজায় রেখেই বাস্তব জীবনে তৈরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তার একটি কার্যকর ব্যবস্থা।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল ভাবনা ছিল দান প্রক্রিয়াকে সহজ ও পরিচিত করে তোলা। যেখানে মানুষ কয়েক সেকেন্ডে বিরিয়ানি বা ইডলি অর্ডার করতে পারেন, সেখানে দানের জন্য জটিল পদ্ধতি থাকা উচিত নয় এই ধারণা থেকেই ‘বুক আ মিল’-এর জন্ম।
বর্তমানে সংস্থাটি প্রতিদিন হাজারেরও বেশি মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করছে এবং ধীরে ধীরে এর পরিসর বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অনুন্নত স্কুলের সঙ্গে যৌথভাবে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে, যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টির দিকেও নজর রাখা যায়।
এছাড়াও, অনাথ আশ্রম ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলির সঙ্গে কাজ করে পরিত্যক্ত শিশুদের নিয়মিত খাবার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অপুষ্টি সমস্যা শুধু গ্রামাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়, শহরের বস্তি ও নিম্নবিত্ত এলাকাতেও তা ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। এই প্রেক্ষাপটে ‘বুক আ মিল’-এর মতো উদ্যোগ সরাসরি খাবার পৌঁছে দিয়ে সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির এই অভিনব ব্যবহার ভবিষ্যতে সমাজসেবার ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*