রোজদিন ডেস্ক: বারাসত সাংগঠনিক জেলার ৭টি বিধানসভার মধ্যে ৫টিতেই হার। সেই হারের দায় মাথায় নিয়ে জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের চারবারের তৃণমূল সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষদস্তিদার। রবিবার বিকেলে বারাসতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, আইপ্যাক ও ২০১১-এর পর দলে আসা কিছু ভুইফোঁড় নেতার ঔদ্ধত্য ও বিলাসী জীবনযাপনের কারণে দলের এই হার। এদিন, মধ্যমগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে বসে সাংসদ জানান, তিনি দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েও দিয়েছেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যস্ত থাকায় তাকে জানাতে পারেনি বলেও তার দাবি। তিনি বলেন, আপাতত দলের একজন সাধারণ কর্মী ও সাংসদ হয়ে আগামীদিনে কাজ করবেন। এই দুর্দশা থেকে দলকে ফের তুলে আনতে পারেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীকে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে একটি শব্দও খরচ করেননি। তবে তার এই ইস্তফার খবরে স্থানীয় ও জেলা নেতৃত্বের একাংশ খুশি। বিশেষ করে ভোটে হারার পর তার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দলেরই একটা বড় অংশ। তারা বলছেন, দল সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, দখল হয়ে যাচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে ফল ঘোষণার পর থেকে একবারও জেলা সভাপতিকে কর্মীদের পাশে দেখা যায়নি। উল্টে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা নিয়ে তাদের সামনে দিয়ে যাতায়াত করছেন। দল ও কর্মীরা যেখন বিপদে সেখানে হারের দায় নিয়ে তার এই ইস্তফা রাজনৈতিক মহলে অন্য জল্পনা জন্ম দিচ্ছে। বারাসতে দলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, বারাসতে ছেলে টিকিট না পাওয়ায় তিনি নাকি দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে গা লাগাননি। দলের কাছে সব খবরই ছিল। তাই ভোটের ফল বেরতেই লোকসভার চিফ হুইপের পদ থেকে রাতারাতি ছাঁটাই হয়ে যান তিনি। প্রশ্নের মুখে ছিল তার জেলা সভাপতির পদও। সেটা আঁচ করতে পেরেই কি আচমকা “হারের দায়” নিয়ে এই পদত্যাগ, নাকি পিছনে অন্য কোনও অঙ্ক?

Be the first to comment