প্রতিবেদন: দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে স্বাধীনতার পর কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিল। পছন্দের কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের সংগ্রামকেই বারবার তুলে ধরা হয়েছে। অথচ অসংখ্য পরিচিত-অপরিচিত মানুষের আত্মত্যাগ ইতিহাসের আড়ালেই থেকে গিয়েছে। সেই অজানা বীরদের সামনে আনতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। এর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানালেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি। আচার্য হিসেবে তিনি জানিয়ে দিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এই বিষয়ে গবেষণা প্রকল্প হাতে নিতে উৎসাহিত করবেন। শনিবার লোক ভবনের মার্বেল হলে ‘সেলিব্রেটিং ফ্রিডম থ্রু বেঙ্গল’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে রাজ্যপাল বলেন, স্বাধীনতার পরে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস যেন হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। কেবল কয়েকজন ব্যক্তিকেই তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তব হল, অসংখ্য মানুষ তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আমরা মনে রাখিনি। একটি অকৃতজ্ঞ জাতির কোনও ভবিষ্যৎ নেই। তাঁর কথায়, স্বাধীনতা আন্দোলনের বহু অজানা অধ্যায় এখনও ইতিহাসে যথাযথ স্থান পায়নি। সেই কারণেই নতুন প্রজন্মের সামনে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি।
ভাষণে বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকারও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, বাংলাই পথ দেখিয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাতীয় চেতনা এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্ব— এই সবই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে নতুন দিশা দিয়েছিল। নেতাজিকে ঘিরে ইতিহাসের একাধিক অজানা তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে লোক ভবন শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ‘সেলিব্রেটিং ফ্রিডম থ্রু বেঙ্গল’ প্রদর্শনী। চলবে ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত। ক্যালকাটা কালেক্টর্স ক্লাবের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর লক্ষ্য, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা।

Be the first to comment