রোজদিন ডেস্ক : ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল জিতলে তিনি তৃণমূলেই থাকতেন! শুক্রবার নিজের সংসদীয় কেন্দ্র হুগলিতে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন তৃণমূল থেকে সদ্য এনসিপিআইতে নাম লেখানো সাংসদ তথা অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনার এক স্বীকারোক্তি ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এনসিপিআই-এর বাকি সাংসদরা প্রকাশ্যে না মুখ খুললেও চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন।
শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন
চুঁচুড়ায় বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের উদ্যোগে ভারতমাতা পুজোয় উপস্থিত হন হুগলির সাংসদ। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রচনা বলেন, এবার তৃণমূল জিতলে তৃণমূলেই থাকতাম। তৃণমূল হেরে গিয়েছে বলে দলবদল করেছি। যখন এখানে তৃণমূলের সরকার ছিল, তখনই কাজ করতে পারিনি। দিদিও বলতেন, রাজ্যের টাকা নেই। কেন্দ্র টাকা দেয় না। আমার সাংসদ পদের মেয়াদ আরও তিন বছর বাকি আছে। আমি অনেক কাজ করতে চাই। তৃণমূল হারার পর এখন তিন বছর বসে থাকতে পারতাম না। তাই, কাজ করার তাগিদেই তৃণমূল ছেড়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমার এখনও সাংসদ হিসেবে তিন বছর মেয়াদ আছে। সাংসদ হিসাবে কাজ করতে চাই। অনেক কাজ করেছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। এবার বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজগুলো শেষ করতে পারবো। আমি তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করি। উনি আমাকে নিয়ে এসেছিলেন। আমি অন্যদের মতো সাধারণ মেয়ে নই। মমতাদি বুঝেছিলেন, তাই দিদি নম্বর ওয়ানের সেটে গিয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সাংসদ হওয়ার পর প্রথম প্রথম কোনও কাজই করতে পারতাম না। দিদি খালি বলতেন, কেন্দ্র টাকা দেয় না। তোমরা চেষ্টা করো। কিন্তু আমরা আবার কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে যেতে পারতাম না। তারপরও আমি অনেকের কাছে গিয়েছি। বাংলার উন্নতির জন্য ডাবল ইঞ্জিন সরকার দরকার ছিল। না হলে উন্নয়ন হবে না। কথা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে বলেন, এত অল্প সময়ে ভালো কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এদিন তিনি অনেক অনুরোধেও বহু চর্চিত আরবানায় থাকা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Be the first to comment