প্রতিবেদন: রাজ্য রাজনীতির পরিচিত মুখ তথা বীরভূমের জনপ্রিয় ও দাপুটে নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যু। মিলেছে সুইসাইড নোটও। তবে নিশ্চিতভাবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না, কীভাবে মৃত্যু। ময়নাতদন্তের পরই তা স্পষ্ট। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া রাজনৈতিক জগতে। তার মধ্যেই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের। সেখানে একাধিক প্রশ্নও তুলেছেন কুণাল। তিনি লেখেন—
“বীরভূমে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু। বলা হচ্ছে আত্মহত্যা, সুইসাইড নোটও নাকি পাওয়া গেছে, তবু বলব, ঘটনা অনুসন্ধানসাপেক্ষ। ভাবা যাচ্ছে না। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
১) কোনো দোষ প্রমাণের আগে কাউকে অপবাদ, কলঙ্ক, সামাজিক অপদস্থ করার যে প্রবণতা বিজেপি শুরু করেছে, এই ঘটনা তার পরিণাম। কিছুদিন আগেই রাস্তায় তাঁকে বিজেপি নেতার অপমান করার যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাকেও আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলে ধরা উচিত।
২) ‘ভালো তৃণমূল’ হয়েও বাঁচা যায় না। কারণ ওখানকার পাঁচ ছ’জন শুধু নিজেদের পাপ ঢাকার জন্যে বিজেপির পা চাটতে গেছে। সসম্মানে ওই রাজনীতি করা যায় না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে গেলে মমতাদির নেতৃত্বে এককাট্টা থাকতে হবে। নইলে বালিশচাটন আর পাঁচ ছ’জন নিজেদের ধান্দা গোছাবে। আশিসদাকে আত্মহত্যা করতে হবে। এটা তো ওই শিবিরেরও ব্যর্থতা।
৩) আশিসদাকে চাপ দিয়ে ওই শিবিরে নেওয়া হয়েছিল। উনি দলীয় নেতাদের বলার চেষ্টা করছিলেন মমতাদির নেতৃত্বে থাকাই ভালো।( যেটা আরও অনেকের মতামত)। কিন্তু দুর্নীতির তদন্ত থেকে বাঁচতে ওদিকে যাওয়া কয়েকজন আশিসদাকে চাপ দিয়ে সঙ্গে থাকতে বাধ্য করেছিলেন বলে সূত্রের খবর।
৪) আত্মহত্যাই, না কি অন্য রহস্য আছে, তদন্তকারীরা দেখুন। পুলিশ, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। আশিসদার আত্মহত্যা/রহস্যমৃত্যু বাংলার এই পরিবর্তিত রাজনীতির লজ্জা। প্রাক্তন বিধায়ক ও ডেপুটি স্পিকারকে রাজনীতির ঘূর্ণিতে আত্মহত্যা করতে হচ্ছে, এ লজ্জা রাখব কোথায়?”

Be the first to comment