রোজদিন ডেস্ক : চূড়ান্ত শুনানির পর বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাসের ওপর জোড়া ফুল প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন। এদিন সন্ধ্যায় দুই পক্ষকেই চিঠি দিয়ে তাদের অন্তর্বর্তীকালীন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিল কমিশন। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে তৃণমূলের আর কোনও প্রার্থীই রইল না। সেই সঙ্গে থাকল না ঘাস ফুল প্রতীকও। আগামীকাল শুক্রবার সকালের মধ্যে দুই শিবিরকে তাদের পছন্দের তিনটি করে প্রতীক জমা দিতে বলা হয়েছে। সেখান থেকেই নতুন প্রতীক বেছে নিতে হবে তৃণমূলের দুই শিবিরকে। কমিশনের নির্দেশ, আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়—দুই তরফের কেউই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত ‘ঘাসের ওপর জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে উপনির্বাচনে দুই পক্ষকেই আলাদা নামে এবং কমিশনের নির্ধারিত মুক্ত প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়তে হবে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।
বৃহস্পতিবার ১৬ পাতার অন্তর্বর্তী নির্দেশে কমিশন জানিয়েছে, তারা পেশ করা নথি, দাবি ও পাল্টা দাবির ভিত্তিতে আপাতত এ কথা স্পষ্ট যে, তৃণমূলের মধ্যে দু’টি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন, অন্যটি অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন। উভয় পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করছে। ফলে নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত আদেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের পক্ষে এই বিরোধের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
কমিশন জানিয়েছে, চলতি উপনির্বাচনের নির্ধারিত সময় সূচির মধ্যে এই বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতীক ও দলের নাম ব্যবহার নিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল। সেই কারণেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করা হল। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের পছন্দমতো তিনটি সম্ভাব্য নাম এবং তিনটি বিকল্প প্রতীক ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে কমিশনে জমা দেবে। কমিশন সেই তালিকা থেকে একটি নাম এবং একটি প্রতীক অনুমোদন করবে, যা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রার্থীরা এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। কমিশনের নথি অনুযায়ী, রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দুই পক্ষই পৃথক প্রার্থী দিয়ে তাঁদের তৃণমূল প্রার্থী বলে দাবি করেছে। সেই পরিস্থিতির কারণেই প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

Be the first to comment