পিয়ালী:
২৭ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ডে বা বিশ্ব পর্যটন দিবস। রাজ্যে গঠিত নতুন সরকারের পর্যটন মন্ত্রী ডক্টর শংকর ঘোষের উদ্যোগে পালিত হল এই দিনটি। আলিপুরের তাজ বেঙ্গল হোটেলে শংকরবাবু পর্যটন ক্ষেত্রে উদ্যোগপতি বা শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে করলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী, আর সেই লক্ষ্মী লাভের আশায় সারাদিনের ব্যস্ত সিডিউল, সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ সবকিছু সেরে প্রায় রাত এগারটা অব্দি বৈঠক করলেন শংকরবাবু। এলো, ১২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব। উপস্থিত ছিলেন অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর কর্ণধার হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। তিনি একাই চার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব আনলেন। প্রতিশ্রুতি দিলেন কলকাতায় সর্বোচ্চ মানের আরো পাঁচটি হোটেল তৈরির। পর্যটন ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি শংকর বাবু বললেন সব মিলিয়ে ২২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভাবনা এই বিনিয়োগে।
পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে এই অভূতপূর্ব প্রয়াসে এক রাতেই যদি ২২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং ১২৫৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসে তাহলে রাজ্য যখন পর্যটন নীতি ঘোষণা করবে তখন তার ফলাফল কি হবে তা আপনারা বুঝতেই পারছেন।
শিল্প দপ্তরের বিনিয়োগ নীতি যা পুজোর আগেই প্রকাশিত হতে চলেছে তারই একটি অংশ হলো পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ।
কিন্তু কি আছে এই বাংলায় কেনই বা ভারত বা দেশের বাইরের থেকে মানুষজন আসবেন বাংলায় বেড়াতে ?
পর্যটন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন আমাদের বাংলা উত্তরের দার্জিলিং তরাই ডুয়ার্স থেকে দক্ষিণে সুন্দরবন….. বঙ্গোপসাগর থেকে জঙ্গল সব রকম পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে।
তাই রাজ্য ও ভিন রাজ্য তথা বিদেশ থেকে পর্যটক টানতে এবং বাঙালি ব্যবসায় /বাণিজ্যে বিমুখ এই অপপ্রচার রুখতে পর্যটন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও তাঁর প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

শংকর বাবু বলেন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাশক্তি এবং বিকশিত ভারত তথা অতুল্য ভারত তৈরীর চেষ্টা কে সফল করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাহস ও নেতৃত্ব আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।
পর্যটন ক্ষেত্রে কত অজানা জায়গা ছড়িয়ে আছে চারিদিকে প্রধানমন্ত্রী সেগুলিকে আবিষ্কার করে পর্যটক টানার কথা বলেছেন তিনি এও বলেন যে ক্রীড়া এবং পর্যটন এই দুইটি ক্ষেত্রে আমাদের প্রচুর সম্ভাবনা।

এর পাশাপাশি উদ্যমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চান প্রত্যেকটি বিভাগ থেকে রেভিনিউ জেনারেশন এবং এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তাই পর্যটন দপ্তরও পুরনো সব লাল ফিতের ফাঁস, শ্লথ গতি দূরে সরিয়ে রেখে সর্বশক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নকে সফল করতে এগিয়ে যেতে চায়।

তবে বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারকেও তো নিতে হবে প্রচেষ্টা করতে হবে অর্থ লগ্নী ।তাই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত নিঃসন্দেহে এই অনুষ্ঠানের এক উল্লেখযোগ্য অঙ্গ। তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য পেশ করেন।
পূর্বতন সরকারের স্লথতার কথা উল্লেখ করে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন এটা প্রশংসনীয় যে সুন্দরবন কার্শিয়াং কালিংপং কে প্রমোট করা হচ্ছে। বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে সুন্দরবন বসে আছে কিন্তু তা পরিচিতির জন্য কতটা সচেষ্ট আগের সরকারগুলো??? তাদের ভূমিকা কী ?

কালীঘাট সহ শক্তিপীঠ গুলো নিয়ে নতুন সরকারের চিন্তাভাবনা অনেক। স্বপন বাবু বলেন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কালীঘাটে নিয়ে গিয়ে সেখানে বা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে টয়লেট না থাকায় রীতিমতো লজ্জায় পড়তে হয় তাঁকে।
অথচ একথা বলাই বাহুল্য শক্তিপীঠ গুলোর মধ্যে কালীঘাট সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বপনবাবু আশা প্রকাশ করেন যে পর্যটনে বিনিয়োগ এবং সরকারি চেষ্টা জারি থাকলে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নেবে পশ্চিমবঙ্গ। টি টুরিজম থেকে ম্যানগ্রোভ অরণ্য বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র মালা থেকে ঘন জঙ্গল কি নেই এখানে তাই তিন মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে পর্যটন ক্ষেত্রে ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হব আমরা।

শুধু কথার কথা নয় ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তরের পশ্চিমবঙ্গে ৮০০ টি রুম ছিল সেগুলি বাড়িয়ে ১৬০০টি করা হবে। এই প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সাদার্ন এভিনিউ বুলেভার্ডে ফেলুদার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে সত্যজিৎ রায়ের গোয়েন্দা চরিত্র কে সম্মান জানিয়ে এক অভূতপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি করা হবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রী শংকর ঘোষ কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এর আগে আমাদের উত্তরসূরি বা ছাত্রছাত্রীদের পাশ্চাত্য শিক্ষায়, পশ্চিমের সংস্কৃতিকে পছন্দ করতে উৎসাহিত করা হতো। তাদের সেই রকমই শিক্ষা দেওয়া হতো। কিন্তু আমরা অন্যান্য দপ্তরের পাশাপাশি পর্যটন দপ্তর নতুন প্রজন্মকে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের কৃষ্টি সংস্কৃতি ঐতিহ্য পরম্পরার প্রতি শ্রদ্ধাবান হওয়ার জন্য সচেষ্ট হবো।

Be the first to comment