রাজ্যের অর্ধেকের বেশি বুথই সংবেদনশীল, তালিকা প্রকাশ কমিশনের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যের প্রায় অর্ধেকের কিছু বেশি বুথকে সংবেদনশীল ও অতিসংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করল কমিশন। সব জেলার রিপোর্ট আসার পর নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৪১ হাজার ৪০০ বুথ সংবেদনশীল। তার মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ বুথকে অতিসংবেদনশীল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, সীমান্তবর্তী ও স্পর্শকাতর জেলাগুলিতেই সংবেদনশীল বুথের সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, বীরভূম, নদীয়ার সীমান্ত এলাকা, হুগলির একাংশে সংবেদনশীল বুথের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য। আইন শৃঙ্খলার নিরিখে এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে বলেঔ জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে ২৪০ কোম্পানি আধাসেনা। রবিবার বা সোমবারের মধ্যেই বাহিনী রাজ্যে পৌঁছে যাবে। সংবেদনশীল ও অতিসংবেদনশীল এলাকাগুলিতে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোতায়েন করা হবে। কোন জেলায় কত কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন হবে, তার বিস্তারিত তালিকাও সামনে এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সর্বাধিক ১৪ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরে। কলকাতা ও মালদহে থাকছে ১২ কোম্পানি করে। দক্ষিণ দিনাজপুরে ১০ কোম্পানি, কোচবিহার ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে থাকছে ৯ কোম্পানি করে বাহিনী। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা ও জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ৮ কোম্পানি করে বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং হাওড়া গ্রামীণ এলাকাতেও থাকছে ৮ কোম্পানি করে। ৬ কোম্পানি দার্জিলিংয়ে, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে ৩, কালিম্পঙে ৩ এবং জলপাইগুড়িতে ৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের ইসলামপুর, রায়গঞ্জ, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ, এই জেলাগুলিতে তুলনামূলক ভাবে বেশি বাহিনী রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে ৭, বনগাঁয় ৪ এবং বারাসতে ৬ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকছে ৬ কোম্পানি করে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে ৭, হুগলি (গ্রামীণ) পুলিশ কমিশনারেটে ৬, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে ৪ এবং বারুইপুরে ৫ কোম্পানি বাহিনী রাখা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে ৬ এবং সুন্দরবনে ৪ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন হবে। পশ্চিমাঞ্চলে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭, ঝাড়গ্রামে ৫, বাঁকুড়ায় ৭, পুরুলিয়ায় ৫ এবং বীরভূমে ৭ কোম্পানি আধাসেনা থাকছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের দাবি, সংবেদনশীল বুথের ঘনত্ব, সীমান্তবর্তী অবস্থান, অতীতের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতি—সব দিক বিচার করেই এই মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও অবাধ রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এলাকাভিত্তিকভাবে ভাগ করে পাঠানো হচ্ছে। বাহিনীর এই বিন্যাস ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে নির্বাচন কমিশন আশা করছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*