কৃষ্ণনগর পুরসভায় কর্মী ছাঁটাই, কাজ হারিয়ে অস্থায়ী কর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভ

Spread the love

রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর : বছরের শুরুতেই কৃষ্ণনগর পুরসভায় কর্মী ছাঁটাইকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা। আর্থিক সংকটের যুক্তি দেখিয়ে প্রায় আড়াইশো অস্থায়ী কর্মীকে বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই কৃষ্ণনগর পুরসভার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন কাজ হারানো অস্থায়ী কর্মীরা।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে কৃষ্ণনগর পুরসভায় স্থায়ী কর্মী রয়েছেন ২৯১ জন। ছাঁটাইয়ের আগে পর্যন্ত অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ছিল ১৩২৬ জন। জলকল, সাফাই, কর বিভাগ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এই অস্থায়ী কর্মীরাই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে প্রায় ৬০ জন করে কর্মী নিযুক্ত ছিলেন বলে পুরসভা সূত্রের দাবি।

পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী মিলিয়ে প্রতি মাসে বেতন বাবদ প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র অস্থায়ী কর্মীদের বেতনেই ব্যয় হয় প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি স্থায়ী কর্মীদের বেতনের একটি বড় অংশ পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে হয়। বর্তমানে সেই তহবিল প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বলেই দাবি প্রশাসনের।

পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, “পুরসভার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া আমাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না। বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”

উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই ১০৬ জন অস্থায়ী কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৩১ ডিসেম্বর রাতেই আরও প্রায় ২৫০ জন অস্থায়ী কর্মীকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শহরজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

অন্যদিকে, বিক্ষোভরত কর্মীদের দাবি একেবারেই ভিন্ন। তাঁদের বক্তব্য, বহু কর্মী ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে পুরসভায় কাজ করছেন। অনেকের ইপিএফও নম্বর রয়েছে, নিয়মিত কাজ করেও তাঁদের হঠাৎ করে বাদ দেওয়া হয়েছে।

একজন ছাঁটাই হওয়া কর্মী বলেন, “দুই দশকের বেশি সময় ধরে আমরা পুর পরিষেবার কাজ করছি। কোনও নোটিস ছাড়াই এক সন্ধ্যায় আমাদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবার নিয়ে আমরা এখন পথে বসার অবস্থায়।”

বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের মানসিক ধাক্কায় জলকল দপ্তরের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে এক আন্দোলনকারী জানান, “এই ছাঁটাই শুধু চাকরি কেড়ে নেওয়া নয়, মানুষের জীবন নিয়ে খেলা। যতদিন না এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।”

কর্মী ছাঁটাইকে ঘিরে পুর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শহরের বিভিন্ন মহলে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কৃষ্ণনগর।

ছবি : রমিত সরকার

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*