নারদ কাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায়কে কেন গ্রেফতার করা হল না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নারদ কাণ্ডে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়, এক বিধায়ক মদন মিত্র এবং প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। এই আবহে শুভেন্দু-মুকুলকে কেন রেহাই দেওয়া হল, সে নিয়ে CBI-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলার শাসক দল। জেলে যাওয়ার সময় মদন মিত্রও ক্ষোভের সুরে বলেছিলেন, ‘মুকুল-শুভেন্দু ভালো, আমরা খারাপ’। তাহলে কি BJP-তে যোগ দিয়ে ‘রক্ষাকবচ’ পেয়েছেন শুভেন্দু-মুকুল? এই প্রশ্ন ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই প্রেক্ষাপটে এবার নারদা মামলার চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
চার হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারির আগে পেশ করা চার্জশিটে CBI উল্লেখ করেছে, শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার প্রক্রিয়ায় কোনও অনুমতি পায়নি তারা। আদালতে CBI জানিয়েছে, ২০১৪ সালে যখন এই অপরাধের ঘটনা ঘটে, তখন কাকলি, সৌগতদের মতো শুভেন্দু, মুকুল রায়ও সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানোর জন্য কোনও অনুমতি মেলেনি সে কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দায়ের করা যায়নি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনই উল্লেখ করা হয়েছে।।
উল্লেখ্য, নারদ তদন্তে CBI-এর গ্রেফতারি নিয়ে এবার মুখ খুললেন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল।এদিন ম্যাথু স্যামুয়েল বলেছেন, ‘বিচার পেতে অনেকটা সময় লেগে গেল। কিন্তু, দেরি হলেও বিচার হয়েছে। আজ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীও তো আমার থেকে টাকা নিয়েছেন। সেটা রেকর্ড করাও হয়েছে। তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করা হল না কেন? সবার জন্যই এক বিচার হওয়া দরকার।’
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘CBI চারজনকে গ্রেফতার করেছে। চারজনই বাংলার রাজনীতিক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বাংলার যেন কেউ না হয়। কাউকে ধরব, কাউকে ছাড়ব, এই নীতি CBI গ্রহণ করতে পারে না।’

Be the first to comment