প্রতিবেদন: পুজোর মুখে মাথায় ওপর ঝুলছে ছাঁটাইয়ের খাঁড়া। এই পরিস্থিতিতে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আইসিটি ঐক্য মঞ্চের ৬ ও ৭ ফেজের কয়েক হাজার হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকরা সোমবার থেকে বিকাশ ভবনে অবস্থান শুরু করেছেন। ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে মঙ্গলবারও অবস্থানে অনড় ওই কম্পিউটার শিক্ষকরা। সোমবার দুপুর গড়িয়ে রাত, রাত পেরিয়ে সকাল। সল্টলেকের করুণাময়ীতে এখনও বিক্ষোভ চলছে কম্পিউটার শিক্ষকদের। চাকরি বহাল করার তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত বিক্ষোভ-অবস্থান চলবে ওবলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষকদের সংগঠন। এদিকে, আজ সকালে শিক্ষক আন্দোলনে আচমকা তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। আন্দোলনে এক বহিরাগত ঢুকে পড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান আন্দোলনকারীরা। পরে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। গতকাল ওই অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সল্টলেকের করুণাময়ী চত্বর। পুলিশের ব্যারিকেড, ধস্তাধস্তি এবং রাজপথে শুয়ে শিক্ষকদের কান্না প্রমাণ, সবমিলিয়ে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার দিকেই আঙুল তুলেছেন তারা। ‘আইসিটি অ্যাট স্কুল’ প্রকল্পের মেয়াদ শেষের অজুহাতে ৩,৭১৯ জনেরও বেশি কম্পিউটার শিক্ষকের রুটিরুজি কেড়ে নিতে চলেছে সরকার নিযুক্ত বেসরকারি এজেন্সি। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তাঁদের চুক্তি শেষ করে হাতে ধরানো হচ্ছে টার্মিনেশন লেটার। কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই নতুন করে টেন্ডার ডাকার চক্রান্ত চলছে। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে যে শিক্ষকেরা নামমাত্র বেতনে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে পড়াচ্ছিলেন, নতুন ভেন্ডর আসার পর তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? তাই নিয়েই চিন্তায় তাঁরা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবারের মধ্যেই তাঁদের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরোতে চলেছে। শিক্ষকদের আশঙ্কা, নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁদের চাকরিও আর থাকবে না। আন্দোলনকারীদের বড় অংশের অভিযোগ, আইসিটি অ্যাট স্কুল প্রকল্পের ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ে নিযুক্ত প্রায় এক হাজার চারশো কম্পিউটার শিক্ষককে নাকি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থার তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাঁদের চুক্তি আর নবীকরণ করা হবে না।

Be the first to comment