রমিত সরকার, নদীয়া :
চাকরি দেওয়া এবং চাকরিতে পুনর্বহালের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস নেতা স্বপন ঘোষকে সোমবার সকালে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে পেশ করল কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। অভিযুক্ত স্বপন ঘোষ কৃষ্ণনগর এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি এবং ভাতজাংলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।
পুলিশ ও অভিযোগকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া এবং চাকরিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন স্বপন ঘোষ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাকরি না হওয়ায় এবং অর্থ ফেরত না পাওয়ায় প্রতারিত ব্যক্তিরা তাঁর বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং প্রতারণা সংক্রান্ত একাধিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই স্বপন ঘোষ আত্মগোপন করেন। বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়। অবশেষে রবিবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ধুবুলিয়ার একটি হোটেলে অভিযান চালায় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়। পরে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সোমবার সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে কোতোয়ালি থানা থেকে বের করে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হয় অভিযুক্তকে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, কতজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং মোট আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কত— সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যদিকে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ পুলিশ। আদালতের নির্দেশ ও তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট সকলের।

Be the first to comment