নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট:
নদিয়ার রানাঘাট শহরে প্রাক্তন এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভ ও মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রানাঘাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জয়দীপ দত্ত ওরফে বগাই দত্তকে সোমবার সন্ধ্যায় চৌধুরী মোড় এলাকায় একদল মানুষ ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। অভিযোগ, তাঁকে মারধরের পাশাপাশি মাথায় বিয়ের টোপর পরিয়ে এবং গলায় একটি পোস্টার ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে অপদস্থ করা হয়। খবর পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ব্যস্ত চৌধুরী মোড় এলাকায় আচমকাই একদল মানুষ জয়দীপ দত্তকে ঘিরে ধরে। প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উপস্থিত কয়েকজন তাঁর মাথায় জোর করে বিয়ের টোপর পরিয়ে দেন এবং গলায় একটি পোস্টার ঝুলিয়ে দেন। সেই পোস্টারে লেখা ছিল— “আমি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বগাই দত্ত, বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি।” এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে চড়, থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষ এই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ওই বিক্ষোভ ও হেনস্থার ঘটনা চলতে থাকে। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খবর দেওয়া হয় রানাঘাট থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, কাউন্সিলর থাকাকালীন জয়দীপ দত্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আদালতে প্রমাণিত কোনো রায়ের কথা জানা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই সাধারণ মানুষের একাংশ এদিন প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছে। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় এক বিজেপি নেতা দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনো কর্মী বা সমর্থকের যোগ নেই এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে দল সমর্থন করে না।
ঘটনার জেরে জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে হেনস্থা ও মারধরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে, জনরোষের কারণ এবং অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।

Be the first to comment