আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ইয়াস আরও শক্তি বৃদ্ধি করবে ৷ শক্তি বৃদ্ধির পর উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে ঘূর্ণিঝড়টি ৷ ২৬ তারিখ সকালে অর্থাৎ আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের খুব কাছাকাছি চলে আসবে এবং দুপুরের মধ্যে ওড়িশা উপকূল ও পারাদ্বীপ ও সাগরের মধ্যে দিয়ে বালাসোরের আশপাশে কোথাও আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনই জানাল আলিপুর আবহাওয়া অফিস ৷
আপাতত ইয়াসের অবস্থান পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ৷ অর্থাৎ ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বদিকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে ৷ বালাসোর থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বে ৪০৭ কিলোমিটার দূরে ৷ পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে ৷ বালাসোরে আছড়ে পড়ার পর এটি ওড়িশার জগৎসিংপুর অতিক্রম করে ঝাড়গ্রামের দিকে অগ্রসর হবে ৷
আলিপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২৫ তারিখ অর্থাৎ আজ থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর ২৪ পরগনায়। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতায়। বুধবার ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়ার সময় ঝড় বৃষ্টির পরিমাণ বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পাবে।
২৬ তারিখ পূর্ব মেদিনীপুর , পশ্চিম মেদিনীপুর , দক্ষিণ ২৪ পরগনা , পুরুলিয়া , বাঁকুড়া , বর্ধমান , হাওড়া , হুগলি , কলকাতা , উত্তর ২৪ পরগনা ও বীরভূমে অতি থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে নদিয়া , মুর্শিদাবাদ ও দার্জিলিংয়ে।
২৭ তারিখ থেকে উপকূলের দিকে বৃষ্টির পরিমাণ একটু কমবে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে। সেইসঙ্গে পশ্চিমের জেলাগুলির মধ্যে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির সর্তকতা জারি করা হয়েছে ৷ পাশাপশি ২৮ তারিখ দু’এক জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে ৷
প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে ইতিমধ্যেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই কলকাতায় আংশিক মেঘলা আকাশ ৷ গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম। জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ ৷

Be the first to comment