২৮ ঘণ্টার যাত্রা শেষ, শুভাংশুর হাত ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ভারত, অভিনন্দন জানালেন মমতা

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ইতিহাস গড়লেন শুভাংশু শুক্লা। দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌছলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন। তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে পৌঁছলেন এবং এবং মহাকাশে ভ্রমণকারী দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে এই খ্যাতি অর্জন করলেন। এর আগে, ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা মহাকাশে পাড়ি দেন। চার দশক পর শুভাংশু শুক্লার এই যাত্রা ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। তাঁর এই সফলভাবে পৌঁছানোর খবর জানার পরই আনন্দ প্রকাশ করে তাঁদের অভিনন্দন জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বুধবার বেলা ১২টা ১ মিনিট নাগাদ আমেরিকার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ফ্যালকন ৯ রকেটে চেপে মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন শুভাংশুরা। দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ সফল ভাবে মহাকাশ স্টেশনে ডক করেছে স্পেসএক্সের ড্র্যাগন ক্যাপসুল। বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ঢুকে যান শুভাংশুরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই শুভাংশুদের যান ‘ড্রাগন’-কে আইএসএস-এর সঙ্গে ‘ডকিং’ করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। আইএসএসের হারমনি পোর্টে ড্রাগনের ডকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংযোগটি দুটি পর্যায়ে ঘটে। প্রথমে চৌম্বকীয় ‘সফ্‌ট ক্যাপচার’ এবং দ্বিতীয় ধাপে যান্ত্রিক ‘হার্ড ক্যাপচার’-এর মাধ্যমে ডকিংয়ের জটিল প্রক্রিয়া শেষ হয়।
এর আগে মহাকাশে ২৪ ঘণ্টা কাটানোর পর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শুভাংশু। শুভাংশু বলেন, ‘যখন যাত্রা শুরু হল, তখন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। খুব ভালো সফর ছিল। মহাকাশে পৌঁছোতেই অস্বস্তি শুরু হয়। শুনলাম, গত কাল নাকি আমি পড়ে পড়ে ঘুমিয়েছি।’ ডকিংয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে ড্রাগন ক্যাপসুলে বসে শুভাংশু তাঁর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি একটা শিশুর মতো করে শিখছি। কী ভাবে স্পেসে হাঁটতে হয়, খেতে হয়।’ শুভাংশু মহাকাশযান থেকে ৪১৮ কিলোমিটার উপরের পৃথিবীর দৃশ্যও ভাগ করে নেন। সেটিকে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে ৭ বার বাতিল হয়েছে এই অভিযান। প্রথমে ঠিক ছিল ২৫ মে অভিযান শুরু হবে। কিন্তু তা পিছিয়ে হয় ৮ জুন হয়। এরপরও বারবার পিছিয়ে গিয়েছে যাত্রার তারিখ। শেষবার দিন ধার্য হয়েছিল ২২ জুন। তাও পিছিয়ে যায়। অবশেষে বুধবার সব দিক থেকে সবুজ সঙ্কেত মেলার পর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে পাড়ি দেয় মহাকাশযান ড্রাগন। শুভাংশু ছাড়াও দলে ছিলেন – মিশনের কমান্ডার, নাসার প্রাক্তন মহাকাশচারী এবং বর্তমানে অ্যাক্সিয়ম স্পেসের হিউম্যান স্পেসফ্লাইট বিভাগের ডিরেক্টর পেগি হুইটসন, ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির পোল্যান্ডের স্লায়োস উজনানস্কি-উইসনিউস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু।
এই মিশনে ১৪ দিন মহাকাশে থাকবেন শুভাংশুরা। নাসা-র সহযোগিতায় ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এবং বায়োটেকনোলজি দপ্তরের (ডিবিটি) তরফে মহাকাশে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ মিশনের অংশ হিসেবে মহাকাশে মোট ৬০টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হবে, যার মধ্যে ভারতের তরফে থাকছে ৭টি। সেই সমস্ত পরীক্ষার নেতৃত্ব দেবেন শুভাংশু শুক্লা। মহাকাশে জীববিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা দিক নিয়ে হবে এই গবেষণা। শুভাংশু ভারতের নিজস্ব স্পেস মিশন ‘গগনযান’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এই অভিযানের মাধ্যমে।
অন্যদিকে, শুভাংশুদের সফলভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর খবর পেতেই আনন্দিত হয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ মিশনের অংশ হিসেবে আমাদের নভোচারী, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা এবং অন্যান্য দলসদস্যদের নিরাপদে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর খবরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
সবাইকে, বিশেষ করে আমাদের নিজস্ব শুভাংশুকে আন্তরিক অভিনন্দন! আইএসএস-এ পৌঁছানো প্রথম ভারতীয় হিসেবে এটি তার জন্য একটি অবিশ্বাস্য অর্জন!
তার এই মিশন কেবল একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞান প্রচেষ্টার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা আমাদেরকে একটি শক্তিশালী মহাকাশ-অভিযাত্রী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
আবারও অভিনন্দন, শুভাংশু! তোমার এই যাত্রা সত্যিই আমাদের সকলকে গর্বিত করেছে! জয় হিন্দ!’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*