৭২ ঘণ্টা ধরে চলবে ইয়াস-এর তাণ্ডব। তাই কেউ যেন জীবনের ঝুঁকি না নেন, সেই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে যে প্রশাসন সর্ব শক্তি নিয়ে প্রস্তুত, সে ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন মমতা। তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে যে সব শক্তিই অসহায় হয়ে পড়তে পারে, তা মেনে নিয়ে মমতা বলেন, ‘নেচার আমাদের হাতে নেই। সব ঈশ্বর-আল্লাই জানেন।
সোমবার, নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, আমফানের থেকেও এই ঝড় আরও প্রবল আকার ধারণ করবে। এ দিন তিনি জানান, মূলত ২০ জেলায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে এই ‘সিভিয়ার’ সাইক্লোনের। মমতা জানিয়েছেন, নবান্ন এবং উপান্ন থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা সারাক্ষণ নজরদারি চলবে। ইতিমধ্যেই খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে স্পেশাল টিম। ১৫ দিন আগে থেকে বার বার বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইতিমধ্যে উপকূল এলাকা থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একাধিক ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা। তবে ত্রাণ শিবিরগুলিতে করোনা বিধি মানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সেখানে সবাইকে মাস্ক পড়ার নির্দেশ দেন। মৎস্যজীবীদের বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আমফানের সময় নিষেধ সত্ত্বেও সমুদ্রে যাওয়ায় মৎস্যজীবীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘সমুদ্রে যাওয়া চলবে না কোনও অবস্থাতেই। ব্লক স্তরে প্রচার চালাতে হবে। স্থানীয় রেডিও চ্যানেলগুলির মাধ্যমেও গ্রামের মানুষের কাছে সরকারের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।’
সতর্কতায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে:
১. উদ্ধারের কাজে ৫১টি টিম প্রস্তুত করা হয়েছে।
২. ১০০০ পাওয়ার রেস্টোরেশন টিম রাখা হয়েছে।
৩. ৪৫০ টেলিকম রেস্টোরেশন টিম রাখা হয়েছে।
৪. হাসপাতালগুলিতে পাওয়ার ব্যাক আপ প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।
৫. জ্বর, ডায়েরিয়া, সাপে কাটার ওষুধ তৈরি রয়েছে।
৬. ত্রাণ শিবির তৈরি করা হয়েছে। উপকূল থেকে সেখানে মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Be the first to comment