মনমোহন সিংয়ের প্রয়াণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এল শোকবার্তা

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক,কলকাতা :- প্রয়াত ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বৃহস্পতিবার ৯২ বছর বয়সে দিল্লির এইমসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। স্বচ্ছ ও নম্র এক রাজনীতিকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সারা দেশ। শোকপ্রকাশ করেছেন বিশ্বের নেতারাও। মনমোহন সিংয়ের জমানায় তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক, বন্ধুত্বের কথা এক্স হ্যান্ডেলে তুলে ধরেছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রের নেতারা।

ভারতে দু’বারের প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করেছেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনি লিখেছেন, “ভারত তাঁর অন্যতম কৃতী সন্তানকে হারাল। আফগানিস্তানের মানুষের কাছে তিনি সর্বদা একজন ভালো বন্ধু হয়ে থাকবেন। তাঁর পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। ঈশ্বর তাঁর আত্মার শান্তি দিন।”

মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মলদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদ। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরে লিখেছেন, “মনমোহন সিংয়ের মৃত্যু সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি আমার কাছে সর্বদা একজন পিতাসম ছিলেন। তিনি মলদ্বীপের একজন ভালো বন্ধু ছিলেন।”

So sad to hear Manmohan Singh has passed. I always found him a delight to work with, and like a benevolent father figure. He was a good friend of the Maldives. @HCIMaldives pic.twitter.com/I0vnfimKpl

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতে রাশিয়ার দূত দেনিস আলিপোভ। মনমোহন সিংয়ের সময়কালে দুই দেশের সুসম্পর্কের প্রসঙ্গে তুলে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “ভারত ও রাশিয়ার জন্য এটি মর্মান্তিক মুহূর্ত। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে ডাক্তার মনমোহন সিং-এর অবদান অপরিসীম। একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাঁর দক্ষতা এবং ভারতের অগ্রগতির প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি অনস্বীকার্য। নম্র আচরণ ও সততার জন্য তিনি সর্বদা সকলের প্রিয় ছিলেন।”

It is moment of poignant sorrow and grief for India and for Russia. Dr Manmohan Singh‘s contribution to our bilateral ties was immeasurable. His suave demeanor was always endearing as unquestionable was his expertise as an economist and his commitment to the progress of India. pic.twitter.com/rxjUQsFgj5

প্রাক্তন ‘সহকর্মী’র মৃত্যতে শোকপ্রকাশ করেছেন কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “আমার প্রাক্তন সহকর্মী প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ে মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি ব্যতিক্রমী বুদ্ধিমত্তা, সততা এবং জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি। তাঁর পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাই।”

&nbsp:অনেকেই মনে করে থাকেন ঠান্ডা যুদ্ধের আগে থেকেই ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের যে ‘শীতলতা’ ছিল, তা কাটে মনমোহনের আমলেই। ২০০৮ সালে বামেদের আপত্তি উড়িয়েই আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। সেই মনমোহনের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, “মাননীয় (মনমোহন) সিংহ ভারত-আমেরিকা কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম সফল ব্যক্তি।” গত দু’দশকে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্ক যে ‘উচ্চতায়’ পৌঁছেছে, তার স্থপতি হিসাবেও মনমোহনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন ব্লিঙ্কেন। আমেরিকার বিদেশসচিব এই প্রসঙ্গে স্মরণ করেছেন মনমোহনের আমলে হওয়া ভারত-আমেরিকা পরমাণু চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা।
নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচন্ড তাঁর শোকবার্তায় মনমোহনকে ‘দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা’ বলে উল্লেখ করেন।


শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে মনমোহন সম্পর্কে লেখেন, “দৃরদৃষ্টিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ এবং ভারতের অর্থনৈতিক উদারীকরণের স্থপতি।”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*