পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাস ও পিওকে নিয়েই একমাত্র আলোচনা, সন্ত্রাসবাদের বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান বলে বিশ্বকেও বার্তা দিলেন মোদি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- যুদ্ধবিরতি হলেও পাকিস্তানের উপর পুরোদস্তুর চাপ বজায় রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন রাত ৮ টা নাগাদ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানান, অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করা হয়নি, স্থগিত রাখা হয়েছে। পাকিস্তান পরবর্তীতে কীরকম আচরণ করে সেদিকে নজর রাখা হবে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে কোন শর্তে কথা হতে পারে তাও স্পষ্ট করেছেন মোদি। তিনি জানিয়েছেন, একমাত্র সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গেই আলোচনায় বসতে পারে দুই দেশ। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরানো নিয়েও কথা হতে পারে। অর্থাৎ ভারত যে আর দ্বিপাক্ষিক কোনও বিষয় নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নয় এদিন মোদির সংক্ষিপ্ত ভাষণে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
যুদ্ধবিরতির পর থেকেই পাকিস্তান ফের সিন্ধু জলচুক্তির প্রসঙ্গ তুলে আলোচনার দাবি জানাচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী ফের একবার স্পষ্ট করেছেন জল ও রক্ত একসঙ্গে বইতে পারেনা, এমনকি পাকিস্তানকে যদি বাঁচতে হয়, তা হলে দেশ থেকে সন্ত্রাসের সমস্ত ঘাঁটি তুলে দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন মোদি। জানান, সন্ত্রাস এবং সমঝোতা একসঙ্গে হতে পারে না।
এরপরই মোদি পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকের মতো জায়গাগুলো এখন বিশ্বে কাছে ‘সন্ত্রাসবাদের বিশ্ববিদ্যালয় বলে বিশ্বের দেশ গুলোকেও নাম না করে বার্তা দেয়। কারণ বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার যে বার্তা ভারতকে গোটা বিশ্ব দিচ্ছে তাঁরই উপযুক্ত জবাব আজ মোদি দিলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, বাহাওয়ালপুর ও মুরদিকে এখন সন্ত্রাসবাদের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বলার পিছনে অনেকেই মনে করছেন, এই জায়গাগুলোর সঙ্গে ভারতের মুম্বাই শহরে যেমন ৯/১১ হামলা থেকে শুরু করে লন্ডন টিউব বোমা হামলা এবং গত দশকে ভারতের মাটিতে ঘটে যাওয়া প্রতিটি হামলার যোগসূত্র রয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্বের কুখ্যাত জঙ্গি এবং আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা এবং নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার অন্যমত মূল চক্রী ছিল ওসামা বিন লাদেন। যার সঙ্গেও যুক্ত পাকিস্তানের এই জায়গাগুলি। অর্থাৎ, আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা শুধুমাত্র ভারতে হামলা চালায় তা নয়। গোটা বিশ্বে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তা বুঝিয়ে দেন মোদি।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরনে পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। বেছে বেছে পরিচয় জেনে হামলা চালানো হয়। এই হামলার ১৫ দিনের মাথায় জবাব দেয় ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি শিবির মিসাইল হানায় তছনছ করে দেওয়া হয়। মৃত্যু হয় অন্তত ১০০ জঙ্গির। জইশ ই মহম্মদ, লস্কর এ তৈবা, হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। লস্কর নেতা হাফিজ সৈয়দের পুরো পরিবার এই জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারায়। মারা যায় আব্দুল রউফের মতো জঙ্গি। ভারতীয় সেনার এই প্রত্যাঘাত অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিলাদের সিঁদুর মোছার মূল্য এখন প্রত্যেক জঙ্গি জেনে গিয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*