রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি শূন্য হবে!” তাঁর এই দাবি এসেছে বিজেপি নেতাদের ব্যক্তিগত কুৎসা এবং রাজনৈতিক সমালোচনার জবাবে। বিধানসভার বাদল অধিবেশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বিশেষ করে বিজেপি নেতা এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে ধরে মমতা বলেন, “বিজেপি নেতারা ব্যক্তিগত কুৎসা ছড়িয়ে রাজনীতি করছে। এই ধরনের অসভ্য ভাষা শুধুমাত্র বিমারু ও বিকৃত মানসিকতার মানুষেরাই ব্যবহার করতে পারে।” এদিন তিনি আরও বলেন, “ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে বিজেপি রাজ্যের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এই ধরনের বিভাজনের রাজনীতি মেনে নেবে না।”
মমতার এই মন্তব্যের পর বিধানসভায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি বিধায়করা তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে হইহট্টগোল শুরু করেন। তারা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষা অসংসদীয় এবং তাঁর বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ বিরোধী দলনেতাকে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনার পর বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার বাইরে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তৃতায় বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিজেপি ধর্মের নামে মানুষকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। তারা মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের এই ষড়যন্ত্র বুঝে গেছে। ২০২৬-এ বিজেপি শূন্য হবে, কারণ বাংলার মানুষ তৃণমূলের পাশে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি নেতারা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে। আমি তাদের কাছ থেকে কোনও সার্টিফিকেট নিতে চাই না। আমার কাজই আমার পরিচয়।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যিনি একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন, তাঁকে একদিন পস্তাতে হবে।” তিনি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এও বলেন, “মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। আমরা বাংলার মাটিকে সম্মান করি এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করি।”
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের সুযোগ দেননি। আমরা বিধানসভার বাইরে সাংবাদিক সম্মেলনে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি।” শুভেন্দু আরও দাবি করেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষের কল্যাণের জন্য কোনও কাজ করেনি। তারা ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।”

Be the first to comment