মাসানুর রহমান,কলকাতা :– আজ ১০ই মহরম। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহরমের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা হিসেবেও পরিচিত। উল্লেখ্য, মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, দান-খয়রাত ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে এই দিনটিকে পালন করেন।

আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ দশ। আর আশুরা মানে দশম। আর মহরম-এর অর্থ সম্মানিত। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহরম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)- এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন।

একটু চোখ রাখা যাক ইতিহাসের পাতায়। জানা যাক ঘটনাবলি। হজরত আলীর মৃত্যুর পর সিরিয়ার শাসক হজরত মুয়াবিয়া (রা.) খলিফার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি জীবিত অবস্থায় নিজের পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের উত্তরাধিকার হিসেবে মনোনীত করেন। কিন্তু ইয়াজিদের নেতৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান ইমাম হোসেন। তিনি মদিনা ত্যাগ করে সত্য ও ন্যায়ের পথ অনুসরণে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ফোরাত নদীর তীরে কারবালায় তাঁবু স্থাপন করেন।

ইয়াজিদের নির্দেশে সেনাপতি উমর ইবনে সাদ কারবালায় প্রায় চার হাজার সৈন্য নিয়ে ইমাম হোসেন ও তাঁর সঙ্গীদের ঘিরে ফেলেন। তাঁদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে শিবিরের জল পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিশু ও নারী-সহ সঙ্গীরা চরম তৃষ্ণায় কাতর হলেও ইমাম হোসেন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। দীর্ঘ অবরোধের পর ১০ মহররম এক অসম যুদ্ধে ইমাম হোসেন এবং তাঁর ৭২ জন সাহসী সাথী শহীদ হন। শেষ পর্যন্ত শিমর ইবনে জিলজুশান ইমাম হোসেনের গলা কেটে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
এই হৃদয় বিদারক ঘটনার স্মরণে বিশ্বের মুসলিমরা দিনটিকে ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে পালন করে থাকেন। অর্থাৎ মুসলমানদের কাছে আশুরা একটি অন্তত শোকাবহ দিন।

Be the first to comment