রোজদিন ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড় ধাক্কা তৃণমূলে। দল ছাড়লেন মালদহের গনিখান পরিবারের সদস্য তথা সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। শনিবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি। ওই সাংবাদিক বৈঠকে মৌসম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ও গোলাম আহমেদ মীর, কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়েছিলেন মৌসম। যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। প্রায় সাত বছর পর ঠিক বিধানসভা ভোটের মুখে নিজের ঘরে ফিরলেন মৌসম। কয়েকদিন আগে মৌসমকে মালদহের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। ইতিমধ্যে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন মৌসম। জানান, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন। সোমবার রাজ্যসভার স্পিকারের দফতরে গিয়ে ইস্তফা দিয়ে আসবেন তিনি। রাজ্যসভায় তাঁর মেয়াদ আর কয়েক মাস। কিন্তু তার আগেই সেই পদ ছাড়ছেন তিনি। কংগ্রেসে ফিরে মৌসম বলেন, আমি বরকত সাহেবের পরিবারের সদস্য। সেই ঐতিহ্য বহন করছি। পারিবারিক ভাবেই আমরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে কংগ্রেসে ফিরব। আমি কয়েক বছর তৃণমূলে ছিলাম। তৃণমূলও আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিল। আমাকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিল, জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিল।

দলে যোগ দিয়ে তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসকে ধন্যবাদ জানাই আমায় নেওয়ার জন্য। আমরা কংগ্রেস পরিবার। মমতাদিকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি। সোমবার রাজ্যসভায় ইস্তফা দেব। দল যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেভাবেই কাজ করব। সেক্যুলারিজম, পিস এবং ডেভেলপমেন্ট, এটাই কংগ্রেসের মন্ত্র। সেভাবেই আগামীদিনে কাজ করবো বলেই জানান মৌসম।মৌসমের দাদা ও কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বলেন, ওঁর রক্তে কংগ্রেস রয়েছে। অন্য দলে যাওয়ার ফলে আমাদের পরিবারের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়েছিল। আজকে সব মিটে গেল। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তরে জয়লাভ করেছিলেন মৌসম। ২০১৪ সালেও সাংসদ নির্বাচিত হন মৌসম। কিন্তু উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ঘাসফুল প্রতীকে প্রার্থী হয়ে হেরে যান। তারপর মৌসম নুরকে রাজ্যসভায় পাঠায় তৃণমূল।

Be the first to comment