রোজদিন ডেস্ক : ৫ বছর আগে লোডশেডিং করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিল বিজেপি। অন্যায় ভাবে জিতে বিরোধী নেতা হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু কী পেয়েছে নন্দীগ্রাম? ৫ বছর ধরে নন্দীগ্রামকে সার্বিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেছে এক গদ্দার ও বিজেপি। আর নয়। যারা নন্দীগ্রামকে বঞ্চিত করেছে, ধর্মে-ধর্মে লড়াই লাগিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছে, এই নির্বাচন তাদের সমূলে উপড়ে ফেলার নির্বাচন। এভাবেই নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকে হুঁশিশারি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বরিবার নন্দীগ্রামের জনসভায় তিনি বলেন, এবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতলে ৫০ দিনের মধ্যে হলদি নদীর উপর সেতুর শিলান্যাস করবে আমাদের সরকার। একই সঙ্গে ৫ বছর ধরে বিধায়ক হিসেবে নন্দীগ্রামে কাজের খতিয়ান চেয়ে শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপিকে অভিষেকের আক্রমণ, ৫ বছর ধরে এখানকার বিধায়ক তিনি। দেশে বিজেপির সরকার। নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য ৫ পয়সার উন্নয়ন হয়েছে? তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সমর্থনে পল্লি উৎসব মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অভিষেক ঘোষণা করেন, তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর নন্দীগ্রামে জিতলে আগামী ৪ তারিখ ফল প্রকাশের ৫০ দিনের মধ্যে আমাদের সরকার নন্দীগ্রামে হলদি নদীর ওপর ব্রিজের শিলান্যাস করবে। এদিনের। মঞ্চ থেকে বিজেপি ও কমিশনকে একহাত নেন অভিষেক। বলেন, রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল ৭ তারিখ নন্দীগ্রামে বিজেপির কিছু মার্কামারা গুন্ডাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এখানকার বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেছেন। এদের এতটাই দুরবস্থা যে এনআইএ, ইডি-সিবিআইকে দিয়ে আমাদের নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। আবার সিইওকে ভোটপ্রচারে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়, এখানকার বিজেপি প্রার্থীর ইলেকশন এজেন্ট হলেন মনোজ আগরওয়াল। আমার চ্যালেঞ্জ, আপনার ইলেকশন এজেন্ট মনোজ আগরওয়াল আপনাকে নন্দীগ্রামে আর মোদি-শাহের ইলেকশন এজেন্ট জ্ঞানেশ কুমার বাংলায় বিজেপিকে জেতাতে পারবে না। এদিনের বক্তব্যে রাজ্য সরকারের একাধিক উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন অভিষেক। নন্দীগ্রাম, কলকাতা বাস পরিষেবার পাশাপাশি কেন্দামারি ঘাট সংস্কার-সহ একাধিক রাস্তাঘাট নির্মাণের কথা বলেন তিনি। ধর্ম নিয়ে বিজেপির নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, যারা ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাদের থেকে বড় ধাপ্পাবাজ আর বেইমান এই বাংলায় আর কেউ নেই। এই বিজেপি বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে আর যোগী আদিত্যনাথের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে। এটাই বিজেপির দ্বিচারিতা। নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী ২৫ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিতবেন এবার।

Be the first to comment