রোজদিন ডেস্ক :
তিনি ঝাল মুড়ি খেয়েছেন দেখে টিএমসি-র ঝাল লেগেছে বলে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ ঠাকুর নগরে মতুয়া গড়ে গিয়ে রাজ্য সরকার, শাসকের দলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। রাজ্যে নারীর সম্মান, সুরক্ষা নেই জানিয়ে আর জি করের নির্যাতিতার প্রসঙ্গ টানেন৷ দাবি করেন, তাঁরা মহিলাদের সম্মান করেন, সুযোগ দেন। আর জি করের নির্যাতিতার মা, সন্দেশখালির নির্যাতিতাদের একজনকে বিজেপি প্রার্থী করার কথা বলেন।
মতুয়া গড়ে ভিড়ে ঠাসা জনসভায় মহিলাদের প্রতি একরাশ সহানুভূতির বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিএম সি র মহাজঙ্গলরাজে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এঁরাই। তাঁদের চোখে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। এই আমলে সব থেকে বেশি নিখোঁজ হচ্ছেন তাঁরাই। ৪ মের পর বিজেপি সরকার সব হিসাব মেটাবে বলে হুঙ্কার দেন।
এই আমলে সব গুন্ডারাই নিজেদের সরকার ভাবে বলে তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, মা মাটি মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল ওরা, এখন মা কাঁদছে এদের নির্মমতায়, মাটিকে করে তুলেছে সিন্ডিকেট আর অনুপ্রবেশ কারী দের হাতে। মাবুষ পালিয়ে যাচ্ছে এদের অত্যাচারে।
প্রথম দফার নির্বাচনেই রাজ্য জেগেছে। টিএমসি-র অহঙ্কার ভেঙেছে। দ্বিতীয় দফায় বিজেপির জয় নিশ্চিত।

মতুয়া গড়ে গিয়ে ঠাকুর বাড়িতে পুজো দিয়ে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ ঠাকুর, বড়মার উদ্দেশ্যে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানান। এই অনুভূতি তাঁর সারা জীবন থাকবে। এত মানুষ তাঁদের আশীর্বাদ দিতে এসেছেন, এটা তাঁদের সৌভাগ্য।
কয়েক বছর আগে তাঁর বাংলাদেশে সফরের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওখানে ওরাকান্দি যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। দেখা হয়েছিল মাতুয়াদের সঙ্গেও। সেখানেও মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন।
প্রয়াত বড়মার প্রসঙ্গে বলেন, ওঁর মমতাময়ী ব্যবহার ভোলার নয়।
আজও নেতাজির দেশবাসীকে স্বাধীনতার আহবানের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এক সময়ে এই রাজ্যের সব দিকে গরিমার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই রাজ্য কে আবার এক নম্বরে নিয়ে যেতে হবে। বিজেপিই তা পারবে।তাঁদের সরকার এলে ভয়, দুর্নীতি, মহিলা নির্যাতন, জঙ্গলরাজ, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে দাবি করেন।
তাঁদের দল কৃষক, মহিলা,গরিব, তরুণ, এমনকি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কথাও ভাবেন। এই রাজ্যের কনটেন্ট ক্রিয়েটর দের বেশ কিছু কাজ তিনি দেখেছেন বলে জানান। তাঁদের উৎসাহ দেন।
যুব ভারতী তে বিশ্ববিখ্যাত ফূটবলার মেসি র অনুষ্ঠানে র দিনের ব্যাপক গোলমালের কথা তুলেও তোপ দাগেন।
আজ তাঁর মুখে “পথের পাঁচালি স্রষ্টা” বিভূতিভূষণ ব্যানার্জির উচ্ছসিত প্রশংসার কথাও শোনা যায়। এই রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে তিনি একাত্ম হতে চান, তার আভাস মেলে।
শরণার্থীদের কথা তুলে সিএএ-র কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সব অধিকার দেওয়া হবে।

Be the first to comment