রোজদিন ডেস্ক :
নির্বাচনের রেশ না মিটতেই ভয়ংকর ঘটনা! আজ রাতে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি থামিয়ে তাঁকে কাছ থেকে গুলি করে কিছু দুষ্কৃতি। তাঁর পেটে, বুকে গুলি লাগে। অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি এর জন্য সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জিকে দায়ী করেছেন। এর নেপথ্যে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে দুই দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এই ভয়ংকর ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রাক্তন সেনা উত্তর পাড়ার নতুন বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, এর নেপথ্যে সুপারি কিলার থাকতে পারে।
সূত্রে র খবর, আততায়ী রা নিহত তরুণ চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি অনুসরণ করে যাচ্ছিল। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় তাঁর গাড়ি থামিয়ে কয়েক দুষ্কৃতি এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে উধাও হয়। তারা বাইকে এসেছিল, মাথায় ছিল হেলমেট। কারা এই কাজ করলো পুলিশ খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে চন্দ্রনাথ রথ কে হত্যাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, ঘটনাস্থলে আরও গাড়ি ছিল।
চালকের পাশেই বসে ছিলেন তিনি। এই হামলায় চালকও আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আজও বিধানসভায় গেছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। বারাসত যাওয়ার পথে এই ভয়ংকর ঘটনা হয়।
রাত এখন ১২.৬ মিনিট। শুভেন্দু অধিকারী হাসপাতালে এসেছেন। ভয়ংকর এই ঘটনা য় দৃশ্যত বিধ্বস্ত বাকরুদ্ধ তিনি। এই মুহুর্তে হাসপাতাল চত্বর ও সামনে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। কোনভাবেই আততায়ীদের ছাড়া হবে না বলে তাঁরা উচ্চ কন্ঠে বলছেন।
ঘটনা স্থলে অর্জুন সিং, সুকান্ত মজুমদার, কৌস্তভ বাগচি সহ বিধায়করা গেছেন। পুলিশ আধিকারিক, কেন্দ্রীয় বাহিনীও আছেন।
পুলিশ একটি গাড়ি আটক করেছে। সন্দেহ ওই গাড়িতে আসা একজন আততায়ীদের বাইকে করে উধাও হয়।
সূত্রের খবর, আদতে চন্ডীপুরের বাদিন্দা চন্দ্রনাথ রথ গত ৫/৬ বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক ছিলেন। তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন, বিশ্বস্ত এই তরুণের ভয়ংকর হত্যা কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
সকলেরই অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে।
আগামী শনিবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ নিয়ে বিজেপি নেতা, কর্মী, সমর্থকরা যখন আনন্দে উদ্বেল, তখন এই হাড়হিম করা হত্যাকান্ড তাঁদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীকেই বার্তা দেওয়া হোল বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
এই মুহূর্তে হাসপাতালের সামনে লোকে লোকারণ্য। ক্ষোভ, বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা।
শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার সহ একাধিক বিজেপি নেতা ভিতরে আছেন।
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঘটনার আকস্মিকতায় বিস্মিত। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বলেন, তৃণমূল রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল। মানুষ এর থেকে মুক্তি চেয়েছে। তৃণমূলই তৃণমূলকে মারছিল।
ভোটের পর তাদেরই অনেকে বিজেপি সেজে হামলা, আক্রমণ চালাচ্ছে। অশান্তি সৃষ্টি করছে।
পুলিশের অনুমান, আততায়ীরা চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি রেইকি করে তাঁকে হত্যা করতে আসে। তাঁর গাড়ির চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন। বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মী সুদর্শন, সুভদ্র, হাসিখুশি চন্দ্রনাথ রথের এমন মর্মান্তিক হত্যায় এলাকার মানুষ শোকস্তব্ধ। অনেকের ই চোখে জল দেখা যায়।
শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, তৃণমূল আর কিছু না করতে পেরে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক কে মারলো।
ঘটনা স্থলে ডি জি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এসেছেন। বলেন, বাইকের নম্বর শিলিগুড়ির বলে সন্দেহ। তাঁরা এই ঘটনার তদন্ত করছেন। যে গাড়ি আটক করা হয়েছে, তার নম্বর প্লেট ভূয়ো বলে মনে করা হচ্ছে।
বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ডিজি-র কনভয় আটকে রাখেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে আততায়ীদের গ্রেফতার করতে হবে। তাঁরা প্রকাশ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী , প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, অভিষেক ব্যানার্জি র নাম করে তাঁরাই এর নেপথ্যে আছেন বলে উচ্চ স্বরে দাবি করেন।
রাত ২টো। দৃশ্যত অত্যন্ত বিপর্যস্ত শুভেন্দু অধিকারী হাসপাতাল থেকে বেরোলেন। সবাইকে তাঁর অনুরোধ, কেউ আইন হাতে নেবেন না। অভয়ার মত বিচার না পেয়ে কেউ থাকবেন না। পুলিশ এর তদন্ত করছে। তাঁরা সরকার গঠন করছেন। এই ঘটনা য় রাজনীতি থাকতে পারে। পরিকল্পিত ভাবে, ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা।
২/৩ দিন রেইকি করে এই খুন। এই মর্মান্তিক হত্যার নিন্দার ভাষা নেই। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকবেন। অপেক্ষা করবেন, পুলিশ নিশ্চয়ই কিছু ক্লু পেয়েছে। ১৫ বছরের মহাজঙ্গলরাজের শেষ ধীরে ধীরে হবে। মাথায় হেলমেট থাকায় আততায়ীদের চিহ্নিত করায় সমস্যা হচ্ছে। এটি পুর্ব পরিকল্পিত বলে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন।
ঘটনা র গুরুত্ব বুঝে ডিজি নিজে আসেন। পুলিশ নিশ্চয়ই খুনীদের পাবে। সবাইকে শান্ত থাকার আবেদন করেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে বলে মন্তব্য করেন।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, এর নেপথ্যে কি আছে বোঝা যাচ্ছে। তদন্ত হচ্ছে, এখনই কিছু বলা যাবে না। পেশাদারি শার্প শুটাররা গুলি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এখন ও হাসপাতালে র সামনে থিকথিক করছে ক্ষুব্ধ জনতার ভিড়।

Be the first to comment