পূর্বতন সরকারের সদিচ্ছার অভাবে কম্পোজিট গ্রান্ট থেকে বঞ্চিত স্কুলগুলি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় পেল অনুদান

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :

রাজ্যের স্কুলগুলির  কম্পোজিট  গ্রান্ট খাতে  দীর্ঘ তিন বছরের বকেয়া মিটিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ গুরু পুর্ণিমায় নবান্ন থেকে  রাজ্যের ৮০ হাজার ৩৭৫টি সরকারি, সরকার পোষিত স্কুলগুলির এতদিনের  কম্পোজিট গ্রান্ট খাতে ২৯৬.৬৪ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। প্রাক্তন সরকারের আমলে দীর্ঘদিন এই টাকা বকেয়া থাকা নিয়ে পূর্বসূরিদের এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, এই টাকা না পেলে স্কুলগুলির চক, ডাস্টার কেনার টাকাও থাকে না। প্রাক্তনদের বিঁধে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি না করে শুধু উড়ালপুল, রাস্তা, আবাসন বানালেই উন্নতি হয় না।

আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জানান, স্কুলগুলির যা অবস্থা, এতে এই টাকা যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনে থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যসচিব বিভিন্ন স্কুলগুলির দুরবস্থা সরেজমিনে দেখেছেন।

বিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ নিজেও একজন শিক্ষক। তিনি গুরুপূর্ণিমার দিন প্রথমে গুরু ব্রহ্মা, গুরু বিষ্ণু, গুরু দেব মহেশ্বর। গুরু সাক্ষাৎ পরম ব্রহ্ম, তস্মৈ শ্রী গূরবে নমঃ বলে সমস্ত গুরুদের শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থে কম্পোজিট গ্রান্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। ছোটো স্কুলগুলি দৈনন্দিন খরচের অর্থ পায় না। নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে এমনকি স্কুল পরিচালনা করতে হয়। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল বলেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে কম্পোজিট গ্রান্ট-এর টাকা পায়নি স্কুলগুলি। আগে যে টাকা এসেছিল, তার প্রপার অডিটও হয়নি। ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটও হয়নি।পাশাপাশি রাজ্য সরকার বলত, আমরা সেন্ট্রাল থেকে টাকা নেবো না। এতে ছাত্র এবং স্কুলের প্রভূত ক্ষতি হয়। শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, এরা বঞ্চিত হন। স্কুলের পরিকাঠামোর অভাবে পড়াশোনা ব্যাহত হয়।

মনোজ আগরওয়াল আরও বলেন, নতুন সরকারের আজ প্রায় ১০ সপ্তাহ। মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে বসার পরই বলেন, আমাদের যত পাওনা তা আদায়ে আমি দিল্লি যাবো এবং দরবার করব। তিন বছর পরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পেল স্কুল শিক্ষা দফতর। দিল্লিতে বেসরকারি স্কুল ছেড়ে সরকারি স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা চলে আসছেন। তার কারণ সেখানে স্কুলগুলির পরিকাঠামো ভালো হয়েছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য গত সরকারের সেই ব্যবস্থা হয়নি। আশা করি স্কুলগুলি টাকার সদব্যবহার করবেন।

প্রসঙ্গত, স্কুলে পড়ুয়াদের সংখ্যা অনুযায়ী এই কম্পোজিট গ্রান্ট দেওয়া হয়, এর থেকে বিদ্যুৎ বিল, পরিচ্ছন্নতা, স্কুলের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ইত্যাদির খরচ মেটানো হয়।

একাধিক শিক্ষক সংগঠন স্কুলগুলির কম্পোজিট গ্রান্ট মিটিয়ে দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*