প্রতিবেদন: কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (NRS) শৌচাগার থেকে বুধবার রাতে উদ্ধার হয় ওই হাসপাতালেরই নার্স (Nurse) রূপালি বর্মণের দেহ। যা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার পরই হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। কিন্তু ঠিক কীভাবে মৃত্যু হল কর্তব্যরত ওই নার্সের, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ঘটনার তদন্তে নেমেছে এন্টালি থানা ও ডিডি হোমিসাইড শাখা। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরও পৃথক তদন্তের কথা ঘোষণা করেছে। এর জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্ত কমিটি। সাতদিনের মধ্যে ওই কমিটিকে স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে মৃতার স্বামী ওই হাসপাতালে ময়নাতদন্তে আপত্তি জানিয়েছে। তাঁর দাবি, অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করাতে হবে। এতে জটিলতা আরও বেড়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শৌচাগার থেকে মেলে নার্স রূপালির দেহ। ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাসপাতাল জুড়ে। ঘটনার খবর পেতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ, প্রশাসন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে পোঁছে যান। এন্টালি থানার পুলিশ ও ডিডি হোমিসাইড শাখা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে মৃতার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি বলেই পুলিশের দাবি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নার্স রূপালি বর্মণের বয়স প্রায় তিরিশ। আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও গত এক বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে দমদম এলাকায় থাকতেন রূপালি। বুধবার রাতে তাঁর আচরণে বা শারীরিক অবস্থায় কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না, বলেই জানাচ্ছেন সহকর্মীরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউতে নাইট ডিউটি ছিল তাঁর। ডিউটিতে সময় মতোই আসেন তিনি। রোগীদের স্বাভাবিক পরিষেবাও দেন। ঘন্টাখানেক পর শৌচাগারে যান। কিন্তু অনেকক্ষণ পরও না ফেরায় সহকর্মীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শৌচাগারে গিয়ে দেখেন তা ভিতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করে না মেলায় দরজা ভাঙা হয়। ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

Be the first to comment