নাকাশিপাড়ায় ভয়াবহ জোড়া খুন: গাড়ি আটকে কংগ্রেস নেতা ও তাঁর পুত্রকে গুলি, ধারাল অস্ত্রের কোপ

Spread the love

নাকাশিপাড়ায় ভয়াবহ জোড়া খুন: গাড়ি আটকে কংগ্রেস নেতা ও তাঁর পুত্রকে গুলি, ধারাল অস্ত্রের কোপ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি আটকে কংগ্রেস নেতা ও তাঁর পুত্রকে খুনের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতরা হলেন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য, নদিয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাক্তন নাকাশিপাড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আনিসুর রহমান এবং তাঁর পুত্র আবু সুফিয়ান। শনিবার রাতে বেথুয়াডহরি থেকে বাড়ি ফেরার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, বেথুয়াডহরি থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন আনিসুর রহমান ও তাঁর পুত্র। নাগাদি রেলগেটের কাছে তাঁদের গাড়ি পৌঁছতেই একদল দুষ্কৃতী গাড়ির গতিরোধ করে। আচমকা গাড়ি ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে গুলি চালানো হয় এবং পরে ধারাল অস্ত্র নিয়ে তাঁদের উপর হামলা করা হয়। হামলার জেরে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে খবর।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। পরে বেথুয়াডহরি রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে আনিসুর রহমান ও আবু সুফিয়ানের দেহ উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

আনিসুর রহমান নাকাশিপাড়া এলাকায় পরিচিত কংগ্রেস নেতা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি নদিয়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন। এর আগে নাকাশিপাড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ফলে তাঁর উপর এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

এই জোড়া খুনের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, পুরনো কোনও বিবাদ নাকি রাজনৈতিক কারণ—কোনও সম্ভাবনাই এখনই উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারীরা। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, কতজন দুষ্কৃতী ঘটনায় অংশ নিয়েছিল এবং হামলার আগে তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগের কোনও স্বাধীন সত্যতা এখনও সামনে আসেনি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাকাশিপাড়া ও বেথুয়াডহরি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। জোড়া খুনের প্রতিবাদে রবিবার রাজ্যজুড়ে ‘কালা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, পুলিশের তদন্তে হামলাকারীদের পরিচয় এবং হামলার প্রকৃত কারণ সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কী কী প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আশপাশের এলাকার সম্ভাব্য নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নাকাশিপাড়ার এই জোড়া খুনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে—কেন তাঁদের গাড়ি আটকে হামলা করা হল, হামলার আগে কি তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে হামলাকারীদের কাছে তথ্য ছিল এবং এই ঘটনার পিছনে কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না। তদন্ত এগোলেই এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*