উৎসব প্রায় শেষের দিকে, কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস সকলের পাশে থাকে। তাই রাজনৈতিক দায়িত্বও পালন করতে হবে। সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানিয়ে ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি সভার ঘোষণা করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আগামী ১৬ নভেম্বর ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তৃণমূলের প্রস্তুতিসভা, প্রধান বক্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকে পার্থ জানান, সাম্প্রদায়িক শক্তির শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট করতে এক মহতী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে আগামী ১৯ জানুয়ারি। তাকে সামনে রেখেই আয়োজিত হয়েছে নেতাজি ইনডোরের সভা। সেই সভায় ১৯ জানুয়ারির সমাবেশকে সফল করতে সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান পার্থ।
এই বৈঠকেই পার্থ ঘোষণা করেন, তৃণমূলের পৌর দলের সভাপতি করা হল ফিরহাদ ববি হাকিমকে। তিনি জানান, আগে পৌর বিষয়ক একটা কমিটি ছিল দলের ভিতরেই। কিন্তু ভোটের আগে তো এক জনকে দায়িত্ব দিতে হয়, সেটাই পুরমন্ত্রী ফিরহাদকে দেওয়া হল। পুরভোটের আগে নিশ্চয় নতুন কমিটি তৈরি হবে দলে।
সিবিআই-দুর্নীতি নিয়েও বৈঠকে মন্তব্য করেন পার্থ। জানান, গত কাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলার বলেছেন। এটা পরিষ্কার হচ্ছে, যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার অন্যের দুর্নীতি খুঁজে বেড়াচ্ছে। একটি নিরপেক্ষ সংস্থাকে বিজেপি সরকার দুরমুশ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
২০১৯-এ বিজেপি ‘ফিনিশ’ হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করে পার্থ বলেন, “দিলীপ ঘোষ এখনই বিসর্জনের বাজনা নিয়ে ঘুরতে পারেন। কারণ যতই চষ্টা করুক, এখানে বিজেপি একটাও আসন পাবে না।”
পার্থ আরও বলেন, “অন্য কোনও দল কে কী করছে সেই সব দেখি না আমরা। শুধু মানুষের স্বার্থ দেখি। আর রাজনৈতিক ভাবে কী ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা হবে, সেটা আমরা দলের ভিতরে আলোচনা করে ঠিক করব।”
প্রসঙ্গত, বৃষ্টিস্নাত একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই ব্রিগেড সমাবেশের ঘোষণা করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উনিশের লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করে দিনও স্থির করে দিয়েছিলেন। দলীয় কর্মীদের টার্গেট বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাংলায় এ বার বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশটাই চাই।’
আর দিদিমণির এই আগাম আহ্বানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহর জুড়ে পুজোর আগেই কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় ‘ব্রিগেড চলো’র হোর্ডিং পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে সবই ছিল স্থানীয় নেতাদের ব্যক্তিগত উৎসাহ। এ বার আর কোনও বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, পুজো মিটতেই দলগত ভাবে নেমে পড়তে চলেছে তৃণমূল।
সূত্রের খবর, ১৬ নভেম্বর নেতাজি ইনডোরের সভায় উপস্থিত থাকবেন সমস্ত জেলা এবং শাখা সংগঠনের নেতৃত্বরা। টানা দু’মাস চলবে প্রচার। একেবারে বুথ স্তরে নিবিড় প্রচার পৌঁছে দেওয়ার জন্য নেওয়া হবে বিভিন্ন কর্মসূচি। মিছিল-মিটিং-পথসভা তো বটেই, সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারকেও বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলার শাসক দল।
ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ডিজিটাল কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। বিজেপিকে কাউন্টার করতে তাই ডিজিটাল ময়দানেও কর্মীবাহিনীকে নামাতে চলেছে বাংলার শাসক দল।

Be the first to comment