অবৈধ খনন নিয়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা ২৯ অক্টোবরের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিলো শীর্ষ আদালত

Spread the love
পুকুর চুরির কথা শোনা যায় প্রবাদ বাক্যে। কিন্তু এ যে পাহাড় চুরি! তা-ও একটা আধটা নয়, ৩১টা! এই নিয়ে নড়ে বসেছে সুপ্রিম কোর্টও। রাজস্থানের আরাবল্লী পর্বতশ্রেণির পাহাড়গুলিতে লাগামছাড়া বেআইনি খননের দাপটেই এমনটা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
বহু দিন ধরেই পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। বারবার জারি হয়েছে সতর্কতাও। কিন্তু হেলদোল দেখা যায়নি কোনও মহলেই। শেষমেশ এমন হল পরিস্থিতি, হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হল সুপ্রিম কোর্ট। জানাল, এই হারে বেআইনি খনন এবং নির্মাণকাজ চলতে থাকলে, খুব শিগ্গিরিই ধ্বংস হয়ে যাবে পরিবেশ।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে উধাও হয়ে গিয়েছে রাজস্থানে আরাবল্লী রেঞ্জের ৩১ পাহাড়। ফলে বাধ্য হয়েই রাজস্থানে ১১৫.৩৪ হেক্টর জমিতে বেআইনি খনন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর তা করতে হবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। ‘ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’-র একটি তথ্যের ভিত্তিতে এই পাহাড় উধাও হওয়ার ঘটনাটি সামনে এসেছে আদালতের।
মঙ্গলবার ওই মামলার রায় দিতে গিয়ে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি মদন বি লোকুর ও বিচারপতি দীপক গুপ্তার বেঞ্চ মন্তব্য করে, আরাবল্লীর পাহাড়ি এলাকায় খনন কার্যের দ্বারা রাজস্থান সরকার প্রতি বছর পাঁচ হাজার কোটি টাকা আয় করে। কিন্তু এর জের বহু দূর ছড়াচ্ছে। এমনকী দিল্লিতে যে ভয়ানক দূষণ, তার একটা কারণ হতে পারে এই এতগুলি পাহাড় উধাও হয়ে যাওয়া।
বিচারপতি লোকুর রাজস্থান সরকারের আইজীবীকে প্রশ্ন করেন, “৩১টি পাহাড় উধাও হয়ে গিয়েছে। দেশ যদি একের পর এক পাহাড় উধাও হয়ে যায় তা হলে দেশের কী হবে? মানুষ কি হনুমান হয়ে গিয়েছে যে পাহাড় কাঁধে তুলে নিয়ে পালাচ্ছে? রাজস্থানের ১৫-২০ শতাংশ পাহাড় উবে গিয়েছে। এই নিয়ে কবে ব্যবস্থা নেবেন?”
অবৈধ খনন নিয়ে রাজ্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা ২৯ অক্টোবরের মধ্যে তাদের জানাতে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। সরকারের বিরুদ্ধে কেন এমন অভিযোগ উঠছে, তারও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*