রিপোর্টার- সুভাষ মজুমদার
মহাধুমধ্যামের সঙ্গে তারকেশ্বরের নাইটা মালাপাহাড় পুর অঞ্চলের দু তিনটে গ্রাম মেতে ওঠেন লক্ষী বন্দনায়।এখানে দুর্গাপূজা নয় লক্ষী পূজাকেই উৎসব হিসাবে পালন করেন এলাকার বাসিন্দারা। মূলত দুর্গা পুজো নিয়ে যখন ব্যস্ত থাকেন বাংলার মানুষ তখন নাইটা মালাপাহারপুর অঞ্চলের রানাবাঁধ, বেড়েমুল, নাইট গ্রামের মানুষ ব্যস্ত থাকেন লক্ষী পুজোর আয়োজন নিয়ে।
তিনটি গ্রামের ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ষোল টি ক্লাব লক্ষী পূজার আয়োজনে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন পুজোর দুই মাস আগে থেকেই।প্রতিটি ক্লাবের সদস্যরাই তৈরি করেন প্রতিমা নিজেরাই তৈরি করেন পূজা মণ্ডপ।প্রতিটি পূজা মণ্ডপেই থিমের বৈচিত্র চোখে পড়ার মতন।গত ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে এই কয়েকটি গ্রামে।
কোথাও মহাভারত কে তুলে ধরা হয়েছে।তো কোথায় বাঙালির বারো মাসের তেরো পার্বণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।আবার পুরোনো যুগের আস্ত একটা হাট বসেছে পূজা মণ্ডপে।উল্লেখযোগ্য ক্লাব গুলি হলো জগন্নাথপুর গ্রামের বিবাদী ক্লাব।এবছর তাদের পূজা ৩৮ বর্ষে পদার্পন করলো।মহাভারতের রথের একটি বিশেষ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
রানাবাঁধ গ্রামের ক্ষুদ্ররামপুর বিবেকানন্দ ক্লাব।এবছর ৩৭ বছরে পদার্পন করলো। মণ্ডপের মধ্যে লক্ষীর বহন কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রানাবাঁধ ছাতিম তলা পূজা কমিটির পূজা ২৯ বছরে পদার্পণ করলো।মণ্ডপ করা হয়েছে অসুরপুরী।দেখানো হয়েছে অসুরপুরীতে মা লক্ষীর আবির্ভাব।
চল্লিশ বছরে পদার্পন করলো রানাবাঁধ লক্ষীমাতা ক্লাবের পুজো।মণ্ডপ জুড়ে বাঙালির বারো মাসে তেরটা পার্বন কে দেখানো হয়েছে।যেখানে বৈশাখের হাল খাতা থেকে ফাগুনের হোলি এবং চৈত্রের গাজন উৎসব।
সব থেকে আকর্ষনীয় এবং নজর কারা পুজো মণ্ডপ করেছে বেলবাঁধ নেতাজি সঙ্ঘ।এবারে তাদের পুজো একচল্লিশ তম বর্ষে পদার্পন করলো।এবারে থিম ক্রয় বিক্রয় থাকুক সাথে মা এসেছে হাটের মাঝে অর্থাৎ গ্রামে একটি হাট কে মণ্ডপে বসানো হয়েছে।যেখানে বোঝানো হয়েছে হাটে কেনাকাটি করতে গেলে বহু মানুষের সাথে পরিচিতির সুযোগ মেলে।এখানে সেই হাটের মাঝে মা এসেছে তাই বহু লোকের সমাগম হবে এখানে।
এই ক্লাবেরই সভাপতি রণজিৎ বেরা বলেন এই অঞ্চলের মানুষের দুর্গাপুজোর কোনো আনন্দ নেই।সেই সময় এখানকার ছেলেরা দিনরাত কাজ করে লক্ষী পুজোর আয়োজনে ব্যস্ত থাকে।দীর্ঘ দেড় দু মাস সময় লাগে এই মণ্ডপ এবং প্রতিমা তৈরি করতে।
পুজো উপলক্ষে ছয় দিন ধরে চলে মেলা।প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।শুধু এই জেলা নয় অন্য জেলা থেকেও ভিড় জমে এই লক্ষীপুজোয় ৷
মেলায় এলাকার বিধায়ক রচপাল সিং বেশ কয়েকটি পুজোর উদ্বোধন করেন, ও প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পূঁজা মণ্ডপ কে পুরস্কৃত করেন ,এছাড়াও ধনেখালির বিধায়ক তথা মন্ত্রী অসীমা পাত্র কেউ দেখা গেল এলাকার পুজো মণ্ডপ গুলিতে।তিনি বলেন কোজাগরী লক্ষীপূজা দেখতে এলাম।এই অঞ্চলের মানুষ দুর্গাপূজা নয় লক্ষী বন্দনাতেই মেতে ওঠেন।কাল থেকে প্রচুর ভিড় হবে তাই আজকেই এসেগেছি।খুব ভালো লাগছে। থেকেও ভিড় জমে এই লক্ষীপুজোয় ৷







Be the first to comment