পরিবারকে কথা দিয়েও পুজোয় বাড়ি আসতে পারেননি সিআরপিএফ-এর এএসআই মীর মতিউর রহমান।শনিবার ছত্তীসগঢ়ের মাওবাদী হামলা পরিবারের সেই প্রধান সম্বলকেই ছিনিয়ে নিল।
শনিবার ভোটের ছত্তীসগঢ়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে শহিদ সেনাদের মধ্যে একজন পশ্চিমবঙ্গের এএসআই মীর মতিউর রহমান।মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার বোখরা গ্রামে টিনের বাড়ি রহমানের।ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে দফায় দফায় জ্ঞান হারাচ্ছেন মা আয়েষা বিবি।নির্বিকার দৃষ্টিতে স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন।
১৯৮৮ সালে সিআরপিএফ-এর চাকরিতে ঢোকেন মতিউর। বছর পঞ্চাশের মতিউর বীজাপুরের মুর্দানা ক্যাম্পে এএসআই পদে ছিলেন।শনিবার বিকেল ৫টা নাগাদ সেনা টহলদারির সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থলেই শহিদ হন মতিউর সহ মোট ৪ জওয়ান। পরে হাসপাতালে গুরুতর জখম এক জওয়ান শহিদ হন।মুর্দানা ক্যাম্পের ১ নম্বর ব্যাটেলিয়ন সেই সময় টহলদারিতে ছিল। মাওবাদীদের বিছিয়ে রাখা ল্যান্ড মাইনে উড়ে যায় সেনাদের গাড়ি।
অনেকদিন ধরেই ছত্তীসগঢ়ে পোস্টিংয়ে ছিলেন রহমান। এই বছর ঈদেও দে়ড় মাসের জন্য বাড়িতে আসেন। আগামী মাসেই ছত্তীসগঢ়ে ভোট, তাই আর ছুটি পাবেন না বলেই পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।আর ফিরলেন না তিনি।
রহমানের ছেলে সইদুল মেডিক্যালের ছাত্র। মেয়ে খাদেজার এই বছরই বিয়ে হয়েছে। ছেলে-মেয়ের কেউই বাবার মৃত্যুর খবর বিশ্বাস করেননি। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে রহমান বরাবরই পরিবারের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। আর্থিক কারণ তো বটেই, রহমানের শূন্যতা কীভাবে মিটবে, সেই নিয়েই চিন্তায় পরিবার।
রবিবার রহমানের বাড়িতে যান জঙ্গিপুরের সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি। এখনও পৌঁছয়নি রহমানের মরদেহ। অপেক্ষায় রহমানের পরিবার সহ গোটা গ্রাম।

Be the first to comment