শনিবার সকালে আমেরিকার পিটসবার্গের সিনাগগে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিলেন এক শ্বেতাঙ্গ বন্দুকবাজ। মুখে স্লোগান ছিল, ‘ইহুদিদের মরতে হবে।’ এই হামলায় ইতিমধ্যেই ১১ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। অবশেষে জানা গেল সেই বন্দুকবাজের পরিচয়।
শ্বেতাঙ্গ ওই বন্দুকবাজের নাম রবার্ট বওয়ার্স। পিটসবার্গেরই বাসিন্দা তিনি। পুলিশের গুলিতে জখম অবস্থায় এখন অ্যালেঘনি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ৪৬ বছরের রবার্ট। পিটসবার্গ পুলিশ জানিয়েছে, এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। এই ঘটনার ততন্তে নেমেছে এফবিআই। এফবিআইয়ের স্পেশ্যাল এজেন্ট বব জোনস জানিয়েছেন, রবার্টসের কাছে বন্দুক রাখার লাইসেন্স ছিল। সেই লাইসেন্স দেখিয়েই ১৯৯৬ সাল থেকে অন্তত ৬ টি বন্দুক কিনেছিলেন তিনি। এই অস্ত্র নিয়েই শনিবারের লোক ভর্তি সিনাগগে হামলা চালিয়েছিলেন তিনি।
অতীতে কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই রবার্টের। তাহলে হঠাৎ করে কী কারণে এই হামলা চালালেন তিনি? পুলিশ জানিয়েছে এই মুহূর্তে অনেক কথায় গোপন করছেন রবার্ট। জিজ্ঞাসাবাদ করে সঠিক কারণ বের করে আনবেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত এফবিআই। তবে ইতিমধ্যেই এই হামলার পিছনে একটা কারণ উঠে আসছে। ইহুদি বিদ্বেষ।
নিজের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে এর আগে বেশ কিছু ইহুদি বিদ্বেষী কথা লিখেছেন রবার্ট। সেই সব তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। আমেরিকার দক্ষিণপন্থী লোকেদের এক জনপ্রিয় সোশ্যাল সাইট হলো ‘গ্যাব’। সেখানেই রবার্ট লিখেছেন, ‘সব ইহুদিরা শয়তানের সন্তান।’ আবার এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকার হিব্রু ইমিগ্র্যান্ট এইড সোসাইটি বাইরে থেকে লোক ঢোকাচ্ছে যাতে তারা আমাদের মেরে ফেলতে পারে। আমি চুপ করে বসে আমাদের লোকেদের খুন করা দেখতে পারব না। আমি চললাম শাস্তি দিতে।’ ইহুদি বিদ্বেষী এরকম অনেক মন্তব্যই দেখা গেছে তাঁর প্রোফাইলে।
এই আক্রমণকে বীভৎস আখ্যা দিয়ে হিব্রু ইমিগ্র্যান্ট এইড সোসাইটির তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনা তাঁদের ক্ষতি। এমনকী মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ঘটনার পরে টুইট করে জানিয়েছেন, “পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গের এই ঘটনায় আমি মর্মাহত। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বড় নাশকতার চেষ্টা হয়েছে এখানে। ওই এলাকার নিরাপত্তা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
নিজের প্রোফাইলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও অনেক কথা লিখেছেন রবার্ট। কখনও বলেছেন, ট্রাম্প জাতীয়তাবাদী। কখনও বলেছেন ততদিন মেক আমেরিকা গ্রেট স্লোগান বাস্তবে পরিণত হবে না যত দিন ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকবেন।
যে সাইটে তিনি এইসব মন্তব্য করেছেন, সেই গ্যাব-এর তরফে অবশ্য এই হামলার নিন্দা করা হয়েছে। তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার পরেই আততায়ীর সঙ্গে রবার্টের প্রোফাইল মিলে যাওয়ার পরে তাঁরাই এফবিআইকে সেই খবর দিয়েছিলেন। গ্যাব-এর তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, আমেরিকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সব রকমের সাহায্য তাঁরা করবেন।
ইতিমধ্যেই গণহত্যা, অস্ত্র মজুত, ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রভৃতি ধারায় একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে রবার্টের বিরুদ্ধে। সুস্থ হলেই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে এফবিআই। আইনজীবীদের বক্তব্য, ফাঁসির সাজা হবে আততায়ী রবার্ট বওয়ার্সের।

Be the first to comment