রোজদিন ডেস্ক : গত শুক্রবারও তিনি ছিলেন। হাসিখুশি প্রাণবন্ত যুবকটির বাড়ি ফেরার কথা ছিল গতকাল অথবা আজ।
তিনি এলেন, একরাশ ফুলে সাজানো গাড়ি করে, বাড়ির সামনে তখন থৈ থৈ জনপ্লাবন, তাঁদের প্রিয় বাবিনকে শেষ বারের জন্য দেখতে চান তাঁরা, সেই প্রিয় হাসিমুখ, সবার সঙ্গে কথা, রূপোলি জগতের তারকা, কিন্তু মাটির কাছের মানুষ রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি জানতেও পারলেন না, তাঁর জন্য এত মানুষ চোখের জলে তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছেন!
প্রগতিশীল, বামপন্থী হিসাবে নিজের পরিচয় কখনো গোপন করেননি, কোনও সরকারি সুবিধা নিতে তীব্র অনীহা ছিল তাঁর। মৃত্যুর পরও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার এই মানসিকতাতেই মান্যতা দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, চেয়েছিলেন গান স্যালুট দিতে।
কিন্ত রাজী হননি রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির পরিবার। তাঁরা সবিনয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণের মধ্যে সাধারণ ভাবেই থাকতে চাইতেন তিনি, তাঁর শেষকৃত্যও তেমনই হোক, কোন রকম আড়ম্বর, সরকারি আনুকূল্য তাঁরা চান না।
গতকালই আচমকা দমকা হাওয়ার মত এসেছিল তাঁর প্রয়াণের খবর। ওড়িশার তালসারিতে সমুদ্রের জলে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন ছোট ও বড় পর্দার প্রতিভাবান জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি। শুধু অভিনয়ই না, তাঁর অসাধারণ লেখনিতে মুগ্ধ ছিলেন বহু মানুষ। দশটি প্রকাশিত বই আছে তাঁর। বহু জনপ্রিয় দৈনিক, পত্রপত্রিকায় লিখতেন তিনি।
রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির শেষ যাত্রায় সামিল হয়েছেন বহু মানুষ। তাঁকে তমলুক থেকে আনতে গেছিলেন জয়রাজ ব্যানার্জি, সৌরভ পালোধি, শতরূপ ঘোষ প্রমুখ। শেষ যাত্রায় তাঁকে দেখতে এসে নামী দামি অভিনেতা অভিনেত্রীদের অনেকেই নিজেদের সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এমন প্রতিভাবান, প্রাণোচ্ছল মানুষটির এমন হঠাৎ চলে যাওয়া তাঁরা কেউই মানতে পারছিলেন না। এসেছিলেন সস্ত্রীক সব্যসাচী চক্রবর্তী, রূপম ইসলাম, শ্রীজাত, বাদশা মৈত্র, দিতিপ্রিয়া রায়, ঈশা সাহা, শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি-সহ বহু তারকা।
রাহুলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন লেখক অভিনেতা পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, ছিলেন বন্ধু পরমব্রত চ্যাটার্জি সহ আরও অনেকে।
তমলুক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় তাঁর। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ফুসফুস সহ শরীরে অত্যধিক বালি ঢুকে গেছিল। ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। মূলত দীর্ঘক্ষণ সমুদ্রে জলের তলায় থাকায় এই পরিণতি হয় তাঁর।
রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করছে।
তাঁর শেষ যাত্রায় লাল পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় দেহবাহী শকট। বিজয়গড়ের বাড়ি থেকে লাল সেলাম ধ্বনি দিয়ে রওনা হয় ফুলে ফুলে সাজানো শকট। গণসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় তা কেওড়াতলা মহা শ্মশানে অভিমুখে।
ছিলেন দীপ্সিতা ধর-সহ আরও অনেকে।

Be the first to comment