ভয় ছাড়ুন ভরসা রাখুন, বিজেপিকে ভোট দিয়ে তৃণমূলকে উপড়ে ফেলে দিন : অমিত শাহ

Spread the love

পিয়ালী :

অপশাসন, অরাজকতা, দুর্নীতি, তোষণ, বেআইনি অনুপ্রবেশ, নারী সুরক্ষার অভাব, কেলেঙ্কারি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন সহ, বিভিন্ন সম্মানজনক পদে চূড়ান্ত অসৌজন্য দেখানো, চাকরি চুরি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ইত্যাদি বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ এনে তৃণমূল সরকারকে চার্জশিট দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইস্তেহার প্রকাশের নিঃসন্দেহে এটি একটি অভিনব উপায়।

তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনকে অপসাশন উল্লেখ করে, ভয়কে জয় করার নিদান দেন অমিত শাহ। চার্জশিট প্রকাশ করার অনুষ্ঠানে একাধিকবার তিনি বলেন আপনারা ভয়কে নির্বাচিত করবেন নাকি ভরসাকে। অরাজকতা মিথ্যা ভয় দেখানো হিংসা ইত্যাদি মুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি আবারও দেন অমিত শাহ

তাঁর বক্তব্যে এ দিনও আসে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেসের কুশাসনে বাংলা ভ্রষ্টাচার তথা দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে বিরক্তি প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়া, তোষণের রাজনীতি, কাটমানি নেওয়া সিন্ডিকেটরাজ চালানো ইত্যাদির তীব্র নিন্দা করে অমিত শাহ বলেন কমিউনিস্ট শাসনেও বাংলা পিছিয়ে পড়েছিল কিন্তু এই তৃণমূল কমিউনিস্টদের থেকে আরও খারাপ। তুলনায় ভালো ছিলেন কমিউনিস্টরা।

অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ জয় করার আশা প্রকাশ করে অমিত শাহ বলেন অঙ্গ অর্থাৎ বিহার, কলিঙ্গ অর্থাৎ ওড়িশায় বিজেপি সরকার। বাকি বঙ্গের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করতে বাংলায় বিজেপি সরকার জরুরি।

২০১৪ থেকে ২০২৪ লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে তথ্য দিয়ে তিনি বোঝান কিভাবে বিজেপি শতাংশের হিসেবে কম থেকে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, যদি বিজেপি সরকার বানায় নয়, বিজেপি অবশ্যই বাংলায় সরকার গড়বে। তিনি বলেন বিজেপি প্রচণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিততে চলেছে।

সংখ্যালঘু তোষণ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, বাংলার মানুষ বলছেন, আমরাই আমাদের নিজ ভূমে সংখ্যালঘু হয়ে যাব। বেআইনি অনুপ্রবেশ ও সংখ্যালঘু তোষণের ফলে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি ভোটেই সহানুভূতি অর্জনের জন্য ভিকটিম কার্ড খেলেন, একথা বলেন শাহ। তিনি বলেন কখনো পা ভাঙা দেখিয়ে কখনো মাথায় ফেট্টি বাঁধা দেখিয়ে কখনো বা ইলেকশন কমিশনকে গালিগালাজ করে তিনি মানুষের মনের সহানুভূতি কুড়োতে চান। কিন্তু তাঁর এই চতুরতা এবারে মানুষ বুঝে গেছে।

বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৌজন্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতিকে, নাড্ডাজিকে, প্রধানমন্ত্রীকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে- এইরকম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের যেভাবে, যে ভাষায় আক্রমণ করেন তা বাংলার সংস্কৃতির বিরোধী।

তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ অমিত শাহ বলেন, শুধু ভোটার তালিকা থেকে নয়, সারা দেশ থেকে বেছে বেছে ঘুসপেটিয়াদের আমরা বের করে দেব, এটাই আমাদের সংকল্প।

তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি উল্টে আমাদের দোষারোপ করেন যে বর্ডার তো সামলায় বিএসএফ। কিন্তু আমি একাধিকবার বলেছি বা ওনার সঙ্গে আমার দপ্তরের সচিবেরা কথা বলেছেন যে জায়গা দিন। বর্ডার ফেন্সিং করতে হবে। এ ব্যাপারে আমার কোন রাজনৈতিক ইগো নেই। জনবিন্যাস পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনমতেই জমি দিতে নারাজ।

তুষ্টিকরণ আর তোষণের কথা বারবার বলেন অমিত শাহ। বলেন সংখ্যালঘুদের জন্য বাজেট কত মমতা ব্যানার্জির? কিন্তু আমার তো আরো পিছিয়ে পড়া জাতি ওবিসি লোকেরা আছে তাদের জন্য আপনার বাজেট কত বা তাদের জন্য সংরক্ষণ সংখ্যালঘুদের তুলনায় অনেক কম কেন?

একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্বেও তার রাজত্বে মহিলাদের হাল খুবই খারাপ বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা মহিলাদের ওপর অত্যাচার চালায়। নারী সুরক্ষার অভাবের উদাহরণ হিসেবে তিনি আর জি করের ঘটনা, কসবা ল- কলেজের ঘটনা, পার্ক স্ট্রিট, হাঁসখালি, কামদুনি একের পর এক নারী নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন। নারী সুরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন শাহ। তিনি বলেন মহিলাদের তিনি রাতে বাইরে যেতে বারণ করছেন এ কেমন মুখ্যমন্ত্রী? তাদের ঘোষণাপত্রে মহিলা বিশেষ করে কর্মরতা মহিলাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার বন্দোবস্ত হবে বলে আশ্বাস দেন অমিত শাহ।

দুর্নীতি তথা ভ্রষ্টাচারের কথা বারবার উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন তৃণমূলের কুড়িরও বেশি জনপ্রতিনিধি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। অথচ ওনাদের ভোটে টিকিট দেওয়া হল!

ইসিআই-এর বাংলার আইএস-আইপিএসদের ট্রান্সফার প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, সমস্ত অফিসারদের তৃণমূল তাদের ক্যাডারে পরিণত করেছে।

কিন্তু এত অভিযোগ তো হলো এর প্রতিকার কিভাবে হবে, বিজেপি সরকারে এলে কি হবে সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ এই বিষয়েও মুখ খোলেন।

তিনি বলেন, বিজেপি শাসন যেখানে উন্নয়ন বিকাশ সেখানে। সেখানেই আছে শান্তি স্বস্তি, সমৃদ্ধি। আমরা পরিকাঠামোর উন্নয়ন করি বিমারু রাজ্যকে বিকশিত রাজ্যে পরিণত করি। তিনি  আসাম সহ বেশ কিছু রাজ্যের উদাহরণও দেন আর পশ্চিমবাংলা তো মা গঙ্গার রাজ্য সুতরাং এখানে পুরোনো গৌরব আমরা ফিরিয়ে দেব এক সময় এখানে শিল্পের হাব ছিল বিজেপি ক্ষমতায় এলে সোনার বাংলা তৈরি করে আমরা শিল্পের উন্নয়ন ঘটাব।

এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ বলেন বাংলায় ৬ই মে বিজেপি সরকার আসবে। তারপর আমরা শিল্পের উন্নয়ন ঘটাবো। যুবকদের রোজগার বেড়ে যাবে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এখানকার যুবকরা কম মজুরি পান, মাইনে পান এবং তাদের কাজ নেই।

নারী সুরক্ষা এবং শিক্ষকদের দুর্নীতিমুক্ত চাকরি প্রদান এবং চাকরির বয়সসীমা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বারবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ভয় ছাড়ুন। ভরসা রাখুন। অধিকারের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টিকে ভোট দিন, তৃণমূল কংগ্রেসকে উপড়ে ফেলে দিন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*