রোজদিন ডেস্ক: মমতাপন্থী তৃণমূল – বিজেপি সংঘর্ষে আজ সন্ধ্যায় যাদবপুর – মুকুন্দপুর এলাকা রণক্ষেত্রের (Jadavpur Clash) রূপ নেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষে ব্যাপক মারপিট চলে। সংঘর্ষে প্রাক্তন আইপিএস তথা প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ন কবীর আহত, রক্তাক্ত হন। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মারে তাঁর চোখ মুখে আঘাত লাগে। দলের তরুণ নেত্রী উপাসনা চৌধুরী ও নিগৃহীত হন বলে অভিযোগ।। বিজেপি অবশ্য সব অভিযোগ ই অস্বীকার করেছে।
মমতাপন্থী তৃণমূলের সমর্থকদের দলীয় কার্যালয় মুক্ত করার প্রয়াস নিয়ে গোলমালের শুরু। সেখানে প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর, উপাসনা চৌধুরী প্রমুখ ছিলেন।

তাঁদের মিছিল কিছুটা এগোতেই বিজেপি কর্মী সমর্থক রা এর ওপর হামলা করে বলে মমতাপন্থী তৃণমূলের অভিযোগ। তুমুল বচসা, হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষ বাধে। মিছিলে ইঁট,পাথর ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ দু পক্ষকে শান্ত করার প্রাণপণ চেষ্টা করে। তাদের সামনেই উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ান।
প্রাক্তন আই পি এস তথা প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সমাজ মাধ্যমে নিজের রক্তাক্ত, আহত অবস্থার ভিডিও পোস্ট করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের সামনেই বিজেপি-র দুষ্কৃতিরা মেরে তাঁর মুখ চোখ ফাটিয়ে দিয়েছে। জামা প্যান্ট ছিঁড়ে দিয়েছে।
দলের তরুণ নেত্রী উপাসনা চৌধুরীর ওপর, তাঁর বাড়িতেও হামলা হয় বলে অভিযোগ। মমতাপন্থী তৃণমূলের দুই কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
দলের পক্ষে সমাজমাধ্যমে বলা হয়, “বিজেপি র গুন্ডারা” এই হামলা করেছে। বিজেপির রাজনৈতিক হিংসার এটাই রূপ বলে তোপ দাগেন তাঁরা।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। বিজেপি কে নিশানা করে তিনি বলেন,দলীয় কার্যালয় দখল মুক্ত করতে গিয়ে যে ভাবে সাবেক তৃণমূলের কর্মী সমর্থক দের ওপর বিজেপি হামলা চালায় তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই বর্বরোচিত হামলায় প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর সহ অনেকে আহত, রক্তাক্ত হয়েছেন।
এমনকি বিজেপি-র হামলা থেকে রক্ষা পেতে তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চ্যাটার্জি থানায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে তিনি জানান। বিজেপিকে ফ্যাসিবাদী বলে তোপ দেগে শুভঙ্কর সরকার প্রশাসন কে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন৷
অত্যন্ত তাৎপর্যপুর্ণভাবে তিনি জানান, রাজ্যের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে এই ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে, সেই ঐক্যের নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী।
হাসপাতালে ভর্তি তৃণমূল কর্মীদের তিনি আগামীকাল দেখতে যাবেন বলে জানান।
এই ঘটনার জেরে যাদবপুর, মুকুন্দপুর এলাকার পরিস্থিতি এখনও থমথমে। পুলিশি টহল চলছে।

Be the first to comment