বাংলা সাহিত্যের আকাশে যাঁর নাম আজও বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার প্রতীক হয়ে জ্বলজ্বল করছে, তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে, তখন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে সকলের। নবম শ্রেণির ছাত্র সন্দীপ পাল নিজের সৃষ্টিশীলতা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে বিদ্রোহী কবিকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে।
ছোটবেলা থেকেই মৃৎশিল্পের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে সন্দীপের। মাটিকে হাতের ছোঁয়ায় নানা আকারে গড়ে তোলার মধ্যেই সে খুঁজে পায় নিজের আনন্দ। সেই শিল্পকেই হাতিয়ার করে নজরুল জন্মজয়ন্তীতে সে তৈরি করেছে বিদ্রোহী কবির প্রতিকৃতি ও ভাবনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত এক বিশেষ শিল্পকর্ম। কোনো মঞ্চ, আলো কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নয়— একেবারে নিভৃতভাবে নিজের শিল্পসাধনার মাধ্যমেই সে তুলে ধরেছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

সন্দীপ জানায়, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। সাম্য, প্রতিবাদ ও মানবতার যে বার্তা কবি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সমাজকে দিয়েছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সেই অনুভূতি থেকেই মাটির কাজে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার ভাবনা আসে তার মাথায়।
বর্তমান সময়ে যখন নতুন প্রজন্মের একাংশ মোবাইল ও ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, তখন সন্দীপের এই উদ্যোগ অনেকের কাছেই এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
শিল্পের ভাষা যে নিঃশব্দ হলেও গভীর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে, সন্দীপ পালের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যেন আবারও সেই কথাই মনে করিয়ে দিল। বিদ্রোহী কবির জন্মজয়ন্তীতে এক কিশোর শিল্পীর মাটির ছোঁয়ায় ফুটে উঠল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সংস্কৃতির প্রতি আন্তরিক টান।

Be the first to comment