কৃষ্ণনগর পুরসভায় বড় স্বস্তির সিদ্ধান্ত: জন্ম–মৃত্যু নথির সার্চ ফি সম্পূর্ণ মুকুব, আবেদন ও রেজিস্ট্রেশন ফি কমে ৫০ টাকা

Spread the love

কৃষ্ণনগর: দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও নাগরিক অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র সংক্রান্ত ফি কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল কৃষ্ণনগর পুরসভা। সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জন্ম–মৃত্যু নথির তথ্য খোঁজার জন্য আর কোনও সার্চ ফি দিতে হবে না। একইসঙ্গে জন্ম–মৃত্যু শংসাপত্রের আবেদনপত্র ও রেজিস্ট্রেশন ফি ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন কোনও ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যুর নথি বহু বছর আগের হলে প্রতি বছরের জন্য ২৫ টাকা করে সার্চ ফি দিতে হত। ফলে ১৯৮০ বা তারও আগের নথি খুঁজতে গেলে নাগরিকদের মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তে সেই বাড়তি আর্থিক বোঝা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘোষণায় খুশি কৃষ্ণনগর পুর এলাকার বাসিন্দারা।

পুরসভা আরও জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে প্রায় সাড়ে ছ’হাজার জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের আবেদন জমা পড়েছিল এবং সেই সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পরিষেবার গতি বাড়ানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরসভা জানিয়েছে,

ম্যানুয়াল নথি থেকে ডিজিটাল শংসাপত্রে রূপান্তরের জন্য প্রসেসিং ফি ধার্য করা হয়েছে ৩০০ টাকা।

ডুপ্লিকেট শংসাপত্র বা সংশোধনের ক্ষেত্রে (ডিজিটাইজেশন সহ) প্রসেসিং ফি রাখা হয়েছে ৪৫০ টাকা।

জন্ম–মৃত্যু নথির সার্চ ফি সম্পূর্ণ মুকুব করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শতাব্দীপ্রাচীন কৃষ্ণনগর পুরসভা বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত হলেও গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে কিছুদিন আগে পুর পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। নাগরিক অসন্তোষের আবহে কয়েক মাস আগে সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী পুরপ্রশাসকের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি পুরকর্মীদের কাজের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা শুরু করেন। মাঠে নামিয়ে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।

যদিও পুরসভার আর্থিক অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিকর নয়। দীর্ঘ সময় রাজস্ব আদায় ব্যাহত হওয়ায় কর্মীদের বেতন দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল পুর কর্তৃপক্ষকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয় শহরজুড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে জন্ম–মৃত্যু শংসাপত্র সংক্রান্ত ফি কমানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনের সদিচ্ছারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকেই।

এই প্রসঙ্গে পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন,
“জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল—বিশেষ করে ফি ও পরিষেবা পেতে দেরি নিয়ে। আমরা সেই জায়গায় হস্তক্ষেপ করেছি। আবেদনপত্র ও রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো হয়েছে, সার্চ ফি সম্পূর্ণ মুকুব করা হয়েছে। গত পাঁচ মাসে জমা পড়া সব আবেদনই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”

পুর প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পুর পরিষেবার উপর নাগরিকদের আস্থা ফেরাতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*