রোজদিন ডেস্ক : তিনি থাকতে এসআইআর-এ বাংলার একজন বৈধ ভোটারের নাম কেউ বাদ দিতে পারবে না। এই বলে মানুষকে আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি বাংলার মানুষের ওপর চক্রান্ত করে এসআইআর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নাম না করে “ভ্রষ্টাচারী”, “স্বৈরাচারী” ও “দুঃশাসন” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করলেন তৃণমূলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ভ্রষ্টাচারী হোম মিনিস্টার, পদত্যাগ করো, না হলে মানুষ তোমাকে পদচ্যুত করবে। মঙ্গলবার দুপুরে বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে তিনি এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি অমিত শাহকেও তীব্র আক্রমণ করেন। মমতা প্রশ্ন তোলেন, শুধু বাংলায় অনুপ্রবেশকারী? কেন কাশ্মীরে নেই? তাহলে পহেলগাঁও ও দিল্লিতে হামলা কে চালাল? তোমরা হামলা করেছিলে? কেন তাড়াহুড়ো করে ২ মাসে এসআইআর করা হচ্ছে? বেছে বেছে কেন বাংলাতেই এসআইআর? কেন অসমে নয়? ওখানেও তো বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে? কেন মণিপুরে নয়? ওখানেও তো মায়ানমার সীমান্ত রয়েছে? প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সভা থেকে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি জমি নিয়ে শাহের অভিযোগের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, রাজ্যে এসে বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেয়নি। জমি না দিলে তারকেশ্বর, বিষ্ণুপুর লাইন কে করেছে? জমি না দিলে ইসিএলের জমিগুলি কয়লা তোলার জন্য কথা থেকে আসত? শুধু তাই নয়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় জমি যে দেওয়া হয়েছে তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বনগাঁ, পেট্রাপোলে জমি কে দিয়েছে, ঘোজাডাঙ্গায় জমি কে দিয়েছে? এমনকী অন্ডাল বিমানবন্দর, পানাগড়েও যে জমি দেওয়া হয়েছে তাও এদিন বাঁকুড়ার সভা থেকে দাবি করেন মমতা।
রাজ্যে এসআইআরের শুনানিতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদেরও ডাকা হচ্ছে। এই ইস্যুতে কমিশনকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসআইআর পর্বে ৫৮ থেকে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল পুরুলিয়ায় একজন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এর জন্য এত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ওরা বয়স্ক মানুষদের সম্মান করতে জানে না। ওরা নিজেদের বাবা-মাকেই সম্মান করে না। ওরা এসব কী বুঝবে! ওরা বাংলার মনীষীদের সম্মান করে না। তাইতো বঙ্কিমচন্দ্রকে বলে বঙ্কিমদা। ওরা রবীন্দ্রনাথ জানে না, রামমোহন জানে না, বিবেকানন্দকে জানে না।বাংলা বললেই বলে বাংলাদেশি। বাংলা বললে মারছে, তাড়িয়ে দিচ্ছে এইতো অবস্থা। এখন এসআইআর করে ফের তাড়ানোর প্ল্যান করেছে। এসব হতে দেব না, জেনে রাখুন ভ্যানিশ কুমার।
শুনানিতে কেন রাজনৈতিক দলের বিএলএ-দের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা দেম মমতা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির লোক নেই বলেই শুনানিতে বিএলএ-দের ঢুকতে দিচ্ছে না। বলেন, ওদের লোকই নেই, তাই বলছে, কারোর লোককে ঢুকতে দেবে না। আমরা তো বলেছি, সব দলের লোক থাকুক, তোমাদের যদি লোক না থাকে আমি কি করবো। লোক নেই বলে ওরা এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করছে। এআই দিয়ে ৫৪ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কমিশনের অফিসে বিজেপির আইটি সেলের লোক বসে আছে। নামের ইংরেজি বানানের হেরফের হলেই নাম বাদ! বিএলএদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা ক্যাম্প করে বসে থাকুন যতদিন শুনানি চলবে কেউ নড়বেন না। এবার পিকনিক টিকনিক থাক। এখন যুদ্ধের সময়। দেখতে হবে একটা নামও যেন বাদ না দিতে পারে। উদ্ধত্য ছাড়ুন, মানুষের পাশে থাকুন। সাহায্য করুন, যাদের কাগজ নেই, তাদের কাগজ জোগাড় করে দিন, এটা আপনাদের দায়িত্ব।

Be the first to comment