মঙ্গলবার বিকেলে প্রথমে তিনি গিয়েছিলেন আলিপুর আবহাওয়া অফিসে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবার নজিরবিহীনভাবে নবান্নে গিয়ে পৌঁছলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মঙ্গলবার হাওয়া অফিসে পৌঁছে ইয়াসের সম্পর্কে সবরকমের খুঁটিনাটি বিষয় বুঝে নিয়ে সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ নবান্নে উপস্থিত হন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে নবান্নের নীচে নেমে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, গতবারে আমফানের স্মৃতি এখনও দগদগে। সেই সময়ও সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নবান্নে কন্ট্রোল রুম তৈরি করে সেখানেই ছিলেন মমতা। এ বারও টানা দু’দিন সেই কন্ট্রোল রুমেই তিনি থাকবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও গতবারের থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার নবান্নের পাশেই থাকা উপান্নতে কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে। কেননা আমফানে তাণ্ডবে কার্যত কেঁপে উঠেছিল নবান্ন। বেশ কয়েকটি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যা পরবর্তী সময় মেরামত করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ নাগাদ সেই কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে যান রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানিয়ে কন্ট্রোল রুমে নিয়ে ঢোকেন। মুখ্যমন্ত্রীর পাশের চেয়ারেই বসেন রাজ্যপাল। দু’জনের সৌজন্য আলাপও হয়। সূত্রের খবর, ইয়াসের মোকাবিলায় এই মুহূর্তে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব।
তবে অন্যান্য সময় রাজ্যপালের মুখে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা শোনা গেলেও আজ তাঁর সুর কিছুটা নরম ছিল বলা চলে। এ দিন আলিপুর আবহাওয়া দফতরে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার সব রকমের সক্রিয়তা দেখিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা এবার অনেক বেশি ব্যবস্থা করে রেখেছে। ভারতীয় নৌসেনাও বিশাখাপত্তনম থেকে বিশেষ দল নিয়ে এসেছে। এনডিআরএফও প্রস্তুত। সবসময় এ ভাবেই সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করা দরকার। আমাদের লক্ষ্য একটাই, সাধারণ মানুষের যেন কোনও সমস্যা না হয়। সে কারণেই আমি মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি।

Be the first to comment