আমলা বদলের নেপথ্যে বিজেপির ছক ফাঁস করলেন তৃণমূলনেত্রী, বাংলা থাকবে তৃণমূলেরই ঘোষণা মমতার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : রামনবমীর মিছিল থেকে রঘুনাথগঞ্জে ভাঙচুর, আগুন লাগানো ও হামলা করা হয়েছে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ার ফলেই এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে। রঘুনাথ গঞ্জে দাঁড়িয়ে শনিবার এমনই অভিযোগ করলেন তৃণমূলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, সিউড়িতে বন্দুক উঁচিয়ে মিছিল করেছে। আমি জানি না প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নেয়নি। রঘুনাথগঞ্জে বিজেপি রামনবমীর মিছিলের নামে অশান্তি পাকিয়েছে। অফিসারদের বদলে দিয়ে অশান্তি করেছে। শনিবার তিনি একই কথা নলেন রানিগঞ্জের খান্দরা ফুটবল মাঠে হরেরাম সিংয়ের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায়। মঞ্চ থেকে ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক বদল ঘটিয়ে কার্যত গোষ্ঠী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। একশোজন অফিসারকে তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মারাত্মক অভিযোগ, বাইরে থেকে টাকা, অস্ত্রশস্ত্র ঢোকানো হচ্ছে। রেল থেকেও আসছে। সেন্ট্রাল পুলিশের গাড়িতে টাকা আসছে। কাউকে ছাড়া হবে না। মানুষ তোমাদের বিচার করবে। প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, খবর আমরাও রাখি। নাকা চেকিং করবেন। এখন দায়িত্বে থাকা কর্তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনুন।

রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর আধিকারিক বদলি থেকে অশান্তি নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লিখেছেন, নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পরেই নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল শুরু করে, যার আওতায় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, এসপি, ডিএম, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং এমনকী, কেএমসির কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্য এবং সময়কাল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এরপর যা ঘটেছে, তা আরও বেশি উদ্বেগজনক। এই রদবদলের আড়ালে ভীতিপ্রদর্শন ও সন্ত্রাসের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেহালার ঘটনায় উদ্বিগ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওখানে বুলডোজার দিয়ে বেশ কিছু দোকানে ভাঙচুর করেছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার হাতে কিছু নেই। কিন্তু যে দোকান বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিয়েছে আমি আবার করে দেব। দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এদিন তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে বলেন, সব কিছুর লক্ষ্মণরেখা থাকে। কমিশন লক্ষ্মণরেখা পার করে গেছে। এদিন নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নেত্রীর হুঙ্কার, আগুন নিয়ে খেলবেন না। এমনকী এদিনের সভা থেকে কমিশনকে ‘ভ্যানিশ ওয়াশিং কমিশন’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

শনিবার তিনি তিনটি জনসভা করেন। এসআইআর নিয়ে কমিশনকে নিশানা করে বলেন, বিজেপি-কমিশন সব সীমা পার করছে। তাঁর প্রশ্ন, প্রথম অতিরিক্ত তালিকা কোথায়? নরেন বলল এক কোটি। আমি বললাম এক কোটি ২০ লক্ষ। প্রথমেই ৫৮ লক্ষ বাদ। খোলাই হয়নি। তার পরে ৬০ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। তার মানে, একটা মেয়ের বিয়ে হয়েছে, সে পদবি বদলেছে। সে জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি! আমি আমার নামের বানান কী লিখব, সেটা আমার অধিকার। বাবা-মা দিয়েছে। তোমার এআই দিয়ে নাম ভুল করেছ। লজ্জা করে না! এরপর কটাক্ষ করে বলেন, একটা কান কাটা থাকলে দুটো কান কাটার ভয় থাকে। বিজেপির দুটো কান কাটা। রামনবমীর মিছিল করো আপত্তি নেই। আমাদের ছেলেমেয়েরা করে। হিংসা করে না। পরশু সিউড়িতে বন্দুক উঁচিয়ে মিছিল করেছো। কেন প্রশাসন পদক্ষেপ করছে না? আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। উকুন বাছার মতো করছে। নিজেদের লোক নিয়োগ করেছে। ওরা জানে না, যতই বাছো বাংলায় আমরাই থাকব। এদিনের সভা থেকে সাপ্লিমেন্টরি তালিকা প্রকাশ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন ট্রাইবুনাল জেলায় জেলায় থাকবে না? কেন শুধু কলকাতায় আসতে হবে এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মানুষদের। তিনি বিজেপিকে ‘শয়তান’, ‘বজ্জাত’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ এসআইআরে বেছে বেছে মহিলাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পদবি দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের তো বিয়ের পর পদবি বদল হয়। মুসলিম মহিলাদের তো ঢেলে নাম বাদ দিয়েছে। আবার হিন্দুদের নামও বাদ গিয়েছে। এদিন কাশীপুরে দলীয় প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়ার সমর্থনে প্রচারে নেমে তৃণমূল নেত্রী বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। বিজেপির বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*